বিদায় ‘টাইমলেস’ মাস্টারমাইন্ড!

চল্লিশ বছর বয়সেও মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো লুকা মড্রিচের জন্য টরন্টোর রাতটা হয়তো ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ নব্বই মিনিট। ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক আজও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বলা হয় "টাইমলেস"। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, একের পর এক কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত ডেলিভারি, প্রতিপক্ষের রক্ষণে অবিরাম চাপ—সবকিছুতেই ছিল তার স্বাক্ষর।

চল্লিশ বছর বয়সেও মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো লুকা মড্রিচের জন্য টরন্টোর রাতটা হয়তো ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ নব্বই মিনিট। ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক আজও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বলা হয় “টাইমলেস”। পুরো ম্যাচজুড়ে বলের নিয়ন্ত্রণ, একের পর এক কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে নিখুঁত ডেলিভারি, প্রতিপক্ষের রক্ষণে অবিরাম চাপ—সবকিছুতেই ছিল তার স্বাক্ষর। ৫৯ মিনিটে একটি হলুদ কার্ড দেখলেও সেটি ছিল তার লড়াকু মানসিকতারই প্রতিফলন। ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দলকে সমতায় ফেরানোর মরিয়া চেষ্টায় একের পর এক কর্নার নিয়েছেন, কিন্তু ভাগ্য শেষ পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়ায়নি।

আর সেই সমাপ্তিটাও এলো একেবারে নাটকীয়ভাবে। যোগ করা সময়ের ত্রয়োদশ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া বল জালে জড়িয়ে যখন উৎসবে মেতে উঠেছিল, ঠিক তখনই ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে ভেঙে যায় সব স্বপ্ন। অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায় সমতাসূচক গোলটি। এত বছরের লড়াই, এত অর্জনের পরও মাত্র একটুখানি ব্যবধানে থেমে গেল একজন কিংবদন্তির বিশ্বকাপ অভিযান।

এটি ছিল মড্রিচের পঞ্চম বিশ্বকাপ। ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে এই কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার তিনিই। ২০০৬ ও ২০১৪ সালে দলকে বিদায় নিতে হয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। কিন্তু ২০১৮ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়াকে তুলেছিলেন বিশ্বকাপের ফাইনালে, জিতেছিলেন গোল্ডেন বল। এরপর ২০২২ সালে দলকে নিয়ে যান সেমিফাইনালে এবং জেতেন ব্রোঞ্জ বল। আজকের ম্যাচটি ছিল তার বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের ২৩তম ম্যাচ।

ক্লাব ফুটবলেও তার পথচলা কম বিস্ময়কর নয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব পেরিয়ে দিনামো জাগরেব থেকে টটেনহ্যাম, এরপর রিয়াল মাদ্রিদ—প্রতিটি ধাপেই নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। রিয়ালের জার্সিতে ১৩ বছরে জিতেছেন ২৮টি শিরোপা, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ২০১৮ সালে মেসি ও রোনালদোর এক দশকের আধিপত্য ভেঙে জিতেছিলেন ব্যালন ডি’অর, হয়ে ওঠেন ক্রোয়েশিয়ার ইতিহাসে এই সম্মাননা জয়ী একমাত্র ফুটবলার।

যদিও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা আসেনি, তবুও অফসাইডে বাতিল হওয়া সেই গোলের পর মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সম্মান আর গ্যালারিভর্তি দর্শকের করতালি যেন একটাই কথা বলছিল—ফুটবল বিশ্ব হয়তো আজই বিশ্বকাপের মঞ্চে বিদায় জানাল এক কিংবদন্তিকে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link