দাপুটে জয়ে টানা চতুর্থবার শেষ ষোলোর মঞ্চে সুইজারল্যান্ড

ভ্যাঙ্কুভারে যেন উল্টো গল্প লেখা হলো! পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে বল পায়ে রাজত্ব করলো আলজেরিয়া, কিন্তু ম্যাচ শেষে ট্রফির পথে এগিয়ে গেল সুইজারল্যান্ডই।

ভ্যাঙ্কুভারে যেন উল্টো গল্প লেখা হলো!

পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে বল পায়ে রাজত্ব করলো আলজেরিয়া, কিন্তু ম্যাচ শেষে ট্রফির পথে এগিয়ে গেল সুইজারল্যান্ডই।

১০ মিনিটে এক ঝলকে বদলে যায় খেলার রং। জোহান মানজাম্বি বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিদ্যুৎগতিতে ছুটে যান, আইসা মান্দি তাকে থামাতেই পারেননি। তার কাটব্যাক থেকে ফাঁকা জালে বল ঠেলে দেন ব্রিল এমবোলো।

এই গোলেই ইতিহাসে নাম লেখান তিনি—দুই ভিন্ন বিশ্বকাপে একাধিক গোল করা প্রথম সুইস ফুটবলার এখন এমবোলো।

বিরতির পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আলজেরিয়া, বরং আরও গভীর হয় তাদের সংকট। দ্বিতীয়ার্ধের একদম শুরুতেই রাফিক বেলঘালির একটি ক্লিয়ারেন্স দখলে নিয়ে নিখুঁত এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনদোয়ে।

গোলটা যেন এক নিমেষেই ভেঙে দেয় আলজেরিয়ার মনোবল। এরপর থেকে মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় সুইজারল্যান্ড।

কোচ ভ্লাদিমির পেৎকোভিচ বেঞ্চ থেকে একের পর এক খেলোয়াড় নামিয়েও ফেরাতে পারেননি প্রথমার্ধের সেই তীব্রতা। ফাবিয়ান রিডার একটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।

শেষ দিকে হলুদ কার্ড দেখেন হিচাম বুদাউয়ি, তবে ততক্ষণে ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে।

বল দখলে এগিয়ে থেকেও (৫১-৪৯) গোলের জালে ঠিকানা খুঁজে পায়নি আলজেরিয়া। শেষ বাঁশি বাজতেই নিশ্চিত হয়ে যায় সুইজারল্যান্ডের শেষ ষোলোর টিকিট—টানা চতুর্থ বিশ্বকাপে এই ধাপে পৌঁছালো তারা।

আগামী মঙ্গলবার একই মাঠে সুইসদের অপেক্ষায় থাকবে কলম্বিয়া-ঘানা লড়াইয়ের বিজয়ী দল।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link