অবসরের গুঞ্জনে জল ঢাললেন সিআরসেভেন

"আমি আর আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেই না" — ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

“আমি আর আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেই না” — ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর পুরো ফুটবল বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগেই তার বোন কাতিয়া আভেইরো দাবি করেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। সেই মন্তব্যে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে অবসরের জল্পনা।

কিন্তু ম্যাচ শেষে সব আলোচনা থামিয়ে দিলেন রোনালদো নিজেই।

“এ মুহূর্তে আমার ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ নয়। জয়ের পর হোক বা হারের পর, পরিবারের সঙ্গে কথা বলব, তারপর সবার জন্য সেরা সিদ্ধান্ত নেব। আমি আর আবেগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নেই না। এখন সবকিছু শান্তভাবে করি। এই মুহূর্তটা উপভোগ করাই আমার লক্ষ্য।“

রোনালদোর এই কথায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের সিদ্ধান্ত তিনি এখনই নিচ্ছেন না। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি টানার আগে তিনি সময় নিয়ে, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ফিফার ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ‘ নির্বাচিত হন রোনালদো। তবে মিক্স জোনে সংবাদ সম্মেলনে না গিয়ে তিনি কথা বলেন শুধুমাত্র অফিসিয়াল সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে।

ম্যাচ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রোনালদো বলেন, “আজ আমাদের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এমন বড় টুর্নামেন্ট জিততে হলে কষ্ট সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হয়। প্রথমার্ধে আমরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি, কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধ ছিল অনেক বেশি কঠিন। তারা গোল করার পর আমরা কিছুটা চাপে পড়ে যাই। তবে পেনাল্টি থেকে গোল করার পর ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। এরপর খেলাটা কিছুটা সহজ হয়েছে। তারপরও কিছু কঠিন মুহূর্ত ছিল। এটাই বিশ্বকাপের বাস্তবতা, আর আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।“

৩৬ বছর বয়সে ইউরো জয়, ৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপের নকআউটে দলের অন্যতম ভরসা—রোনালদোর ভাষায় এখন অতীত বা ভবিষ্যৎ নয়, পুরো মনোযোগ কেবল বর্তমানের দিকে। আর সেই বর্তমানের লক্ষ্য একটাই—পর্তুগালকে বিশ্বকাপের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link