অফসাইডের কাঁটায় ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

টরন্টোয় যেন এক নাটকের শেষ দৃশ্য লেখা হলো। ভাগ্য আর অফসাইডের রেখাই ঠিক করে দিলো কার বিশ্বকাপ বাঁচবে, কার শেষ হবে।

টরন্টোয় যেন এক নাটকের শেষ দৃশ্য লেখা হলো। ভাগ্য আর অফসাইডের রেখাই ঠিক করে দিলো কার বিশ্বকাপ বাঁচবে, কার শেষ হবে। শুরু থেকেই বল দখলে এগিয়ে ছিল পর্তুগাল, কিন্তু জাল খুঁজে পাচ্ছিল না কেউই। বিরতির পর ছবিটা পাল্টে যায়। ক্রোয়েশিয়া নেমে আসে চেনা আগ্রাসনে। ৫৩ মিনিটে জোসিপ স্তানিসিচের ডিফ্লেক্টেড ক্রস থেকে নিচু শটে দিয়োগো কস্তাকে পরাস্ত করেন ইভান পেরিসিচ। গোলটা শুধু লিড এনে দেয়নি, লিখে দেয় ইতিহাসও—দাভর সুকারকে ছাড়িয়ে ক্রোয়েশিয়ার সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ গোলদাতা এখন পেরিসিচই।

কিন্তু ফুটবল ঈশ্বর  যেন পর্তুগালের পক্ষেই ছিলেন। ৬৮ মিনিটে ভেইগাকে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। স্পট থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বয়স ৪১ হলেও পা কাঁপেনি এতটুকু, বরং প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে পুরোপুরি বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ান তিনি। সমতা ফেরার পর ম্যাচ হয়ে ওঠে টানটান। দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালায়, কখনো কস্তার হাত বাঁচায় পর্তুগালকে, কখনো লিভাকোভিচের গ্লাভস আটকায় নিশ্চিত গোল। লেয়াও একবার ক্রসবারেও লাগান শট।

উত্তেজনার সেই পারদ চূড়ায় ওঠে অতিরিক্ত সময়ে। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বদলি নামা গঞ্জালো রামোস উঁচুতে লাফিয়ে হেডে জয়সূচক গোল করেন লেয়াওয়ের ক্রস থেকে। কিন্তু গল্প তখনও শেষ হয়নি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে, যোগ করা সময়ের ত্রয়োদশ মিনিটে ক্রোয়েশিয়া বল জালে জড়িয়েও উৎসব করতে পারেনি—অফসাইডের কাঁটায় বাতিল হয় সমতাসূচক গোল, ভাঙে তাদের সব আশা।


পর্তুগাল জেতে ২–১ ব্যবধানে। ম্যাচে ৬২ শতাংশ বল দখল রাখলেও ১৫টি শটের মাত্র ৩টি ছিল লক্ষ্যে, বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার ১৩ শটের ৭টিই ছিল অন–টার্গেট। লুকা মদরিচের বিশ্বকাপ যাত্রা হয়তো এখানেই থেমে গেল, রোনালদোর পথচলা চলবে আরও একটু। এবার শেষ ষোলোয় পর্তুগালের সামনে অপেক্ষা করছে স্পেন।


ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link