ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নামের পাশে অসংখ্য রেকর্ড। ইতিহাস গড়া সব গোল নামের পাশে আছে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে গোল আছে, অগণিত স্মরণীয় মুহূর্তও আছে। কিন্তু একটা শূন্যতা এতদিন যেন বারবার তাকে তাড়া করে ফিরছিল, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো গোল নেই। বছরের পর বছর সেই আক্ষেপ বয়ে বেড়ানো রোনালদো অবশেষে লিখলেন নতুন ইতিহাস। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই পেলেন প্রতীক্ষিত গোল।
বিরতি পর্যন্ত দুই দলের কেউই ভাঙতে পারেনি ডেডলক। ফিরে এসে দ্বিতীয়ার্ধের মোমেন্টাম পুরোপুরি নিয়ে নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে লিডও পেয়ে যায় তারা। চাপ আর হতাশা জেঁকে বসে পর্তুগালের ঘাড়ে, তবে কি এখানেই ইতি?
সেই মুহূর্তে এক ঝলক রোনালদো ম্যাজিক দেখা যায়। ম্যাচের ৬০ মিনিটে সুযোগ চলে আসে গোল করার, রোনালদো করেনও, তবে অফসাইড বাধ সাধল। উৎসবটা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। বিশ্বকাপের নকআউটে প্রথম গোলের স্বপ্ন যেন আবারও অধরা থেকে গেল। তবে রোনালদোকে ব্যর্থতা গ্রাস করতে পারে না। হতাশার আয়ু তাঁর সামনে খুবই স্বল্প।

৬৮ মিনিটে আবার সুযোগ এলো। বক্সের ভেতরে ফাউল, পর্তুগাল পেল পেনাল্টি। বলটি স্পটে রেখে নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে পিছিয়ে গেলেন রোনালদো। গভীর শ্বাস, ছোট্ট দৌড়, তারপর নিখুঁত শট। একেবারে মাঝ বরাবর বল পাঠিয়ে গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে জাল কাঁপালেন তিনি।
গোল হতেই বিস্ফোরিত হলো স্টেডিয়াম। দুই হাত মুঠো করে নিজের আবেগ প্রকাশ করলেন রোনালদো। কয়েক মিনিট আগের হতাশা বদলে গেল স্বস্তি আর আনন্দে।
এই গোলের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্কোরশিটে নাম তুললেন পর্তুগিজ মহাতারকা। একই সঙ্গে চলতি বিশ্বকাপে পেলেন তৃতীয় গোলও। সমালোচকদের সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি ছিল—নকআউটে তিনি কোথায়? এবার সেই উত্তরটাই দিয়ে গেলেন। দিনশেষে জয়টাও সঙ্গী হলো পর্তুগালের, যার ভিত গড়া তো রোনালদোর হাতেই।











