বালোগান বিতর্কে ফুঁসছে পুরো বেলজিয়াম

শেষ ষোলোর ম্যাচের আগমুহূর্তে মাঠের ফুটবলের চেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাঠের বাইরের এক সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পর বেলজিয়াম শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচের আগমুহূর্তে মাঠের ফুটবলের চেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে মাঠের বাইরের এক সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পর বেলজিয়াম শিবিরে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। দেশটির সংবাদমাধ্যম এই বিতর্কের নামই দিয়েছে ‘বালোগান গেট’।

ঘটনার সূত্রপাত বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে বালোগানের লাল কার্ড থেকে। ভিএআরের পর রেফারি তাঁর স্টাডের আঘাতকে বেপরোয়া বিবেচনা করে মাঠ থেকে বের করে দেন। নিয়ম অনুযায়ী পরের ম্যাচেও নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এই শীর্ষ গোলদাতার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার পথ খুলে যায়।

এরপরই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর যোগাযোগের পরই সিদ্ধান্তটি বদলায়। যদিও এ বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিক কিছু না জানালেও বেলজিয়ান সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে।

ফরাসিভাষী দৈনিক লে সোয়া লিখেছে, এতদিন নিরপেক্ষতার কথা বলা ফিফা এবার সেই বিশ্বাসকেই বিক্রির জন্য তুলে দিয়েছে। আর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবিএফ–এর ভাষ্যকার ভিনসেন্ট ল্যাঙ্গেন্দ্রিস মন্তব্য করেছেন, ‘ফিফা আর কোনো কিছুর সঙ্গেই ছন্দ মেলায় না।’ তাঁর বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ফুটবলবিশ্ব এখন বেলজিয়ামের পক্ষেই দাঁড়াবে। এমনকি ট্রাম্পের বিখ্যাত স্লোগানকে ঘুরিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘লেটস মেক বেলজিয়াম গ্রেট অ্যাগেইন।’

এদিকে ফ্লেমিশ দৈনিক ডে স্টান্ডার্ড বলছে, এই সিদ্ধান্তে ফিফা ও ইনফান্তিনোর আসল চেহারাই প্রকাশ পেয়েছে। বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও সম্ভাব্য সব আইনি পথ খতিয়ে দেখছে।

ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো শাস্তি আংশিক বা সম্পূর্ণ স্থগিত করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। অতীতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে একই বিধান ব্যবহার করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নিষেধাজ্ঞাও কমানো হয়েছিল। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত নজিরটি ১৯৬২ সালে, যখন মানে গ্যারিনচা লাল কার্ড দেখেও ফাইনাল খেলেছিলেন। এবার সেই পুরোনো বিতর্ক যেন নতুন রূপে ফিরে এল।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link