নরওয়ে দলের বর্তমান সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক অসাধারণ পারিবারিক গল্প। আর্লিং হাল্যান্ড, আলেকজান্ডার সরলথ ও ক্রিস্টিয়ান থরস্টভেট—এই তিন ফুটবলারের বাবারাই ৩২ বছর আগে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রে নরওয়ের জার্সি গায়ে খেলেছিলেন। হাল্যান্ডের বাবা আলফ-ইঙ্গে হাল্যান্ড এবং ক্রিস্টিয়ানের বাবা এরিক থরস্টভেট দুজনেই সেই বিশ্বকাপে খেলেছিলেন, থরস্টভেট ছিলেন গোলরক্ষক। একইভাবে সরলথের বাবা গোরান সরলথও ছিলেন সেই দলের সদস্য।
সেবার ইতালির বিপক্ষে ১-০ গোলে হারা ম্যাচে তিনজনই মাঠে বা দলে যুক্ত ছিলেন। থরস্টভেট গোলরক্ষক ছিলেন যখন দিনো বাজ্জো জয়সূচক গোলটি করেন, আর আলফ-ইঙ্গে হাল্যান্ড পুরো ম্যাচ খেলে দেখেছিলেন একটি হলুদ কার্ড।
এবার সেই তিন বাবার ছেলেরাই একসঙ্গে নরওয়ের হয়ে বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন। উদ্বোধনী ম্যাচে ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানের জয়ে হাল্যান্ড দুটি গোল করে নিজের আগমনী বার্তা দেন, সরলথ তার পাশে আক্রমণে শুরু করেন আর থরস্টভেট নামেন বদলি হিসেবে।

সরলথ এই বিশ্বকাপকে দেখছেন পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবার কাছ থেকে শোনা যুক্তরাষ্ট্রের সেই গরমের বিশ্বকাপের গল্পই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে, আর বাবাই ছিলেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় প্রভাবক।
এই আবেগ আরও গভীর হয়েছে বাস্তব মাঠের লড়াইয়ে। হাল্যান্ডের দেরিতে করা দুটি গোলে নরওয়ে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওঠে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে, আর ব্রাজিল ছিটকে যায় ১৯৯০ সালের পর সবচেয়ে আগেভাগে। সাবেক গোলরক্ষক এরিক থরস্টভেট জানিয়েছিলেন, ছেলে ক্রিস্টিয়ানকে ইরাকের বিপক্ষে মাঠে নামতে দেখে আবেগে তার চোখে জল চলে আসে, আর এই মুহূর্তকে তিনি তুলনা করেন সত্যি হওয়া এক রূপকথার সঙ্গে।
তিন বাবা-ছেলের এই গল্প শুধু কাকতালীয় নয়, বরং নরওয়েজীয় ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে যাওয়া উত্তরাধিকারের প্রতীকও বটে।











