জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওডিআইতে লক্ষ্য ছিল ১৪২ রান। তেমন কঠিন নয় অঙ্ক। তবু বাংলাদেশ হেরেছে। আর সেই হারের পর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রশ্ন শুধু ব্যাটিং নিয়ে নয়। প্রশ্ন তাঁর কৌশল নিয়েও।
হারারের সবুজ উইকেটে শুরুটা ছিল দারুণ। নতুন বলে তাসকিন আহমেদ আর নাহিদ রানা আগুন ঝরান। ৭০ রানে জিম্বাবুয়ের ৮ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তখন মনে হচ্ছিল, প্রতিপক্ষ একশ রানও ছুঁতে পারবে না।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। মিরাজ দুই প্রান্ত থেকেই স্পিন আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। সুযোগ পেয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও নিউম্যান নিয়ামহুরি গড়ে তোলেন ৬৩ রানের নবম উইকেট জুটি। শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৪১ রানে। পরে এই অতিরিক্ত রানই হয়ে ওঠে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারক।

ম্যাচ শেষে ভুল স্বীকারও করেন মিরাজ। তাঁর ভাষায়, ওই জুটিই ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। সাবেক এক বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, তখন পেসারদের দিয়েই চাপ ধরে রাখা উচিত ছিল। কারণ প্রতিপক্ষ তখন পুরোপুরি চাপে ছিল।
ওঠে আরও একটি প্রশ্ন: মিরাজের অধিনায়কত্বে কি কার্যকর বোলারদের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে? এমন অভিযোগ নতুন নয়। শামিম হোসেন, রিশাদ হোসেন, সাইফ হাসান কিংবা মোসাদ্দেক হোসেনের মতো একাধিক ক্রিকেটারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও নিয়মিত আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তারা।
সবশেষে হারারেতেও সেই একই চিত্র চোখে পড়ল। নিচের সারির জুটি ভাঙতে নতুন পরিকল্পনা দরকার থাকা সত্ত্বেও মোসাদ্দেককে এক ওভারও বল করতে দেওয়া হয়নি।

বিপরীতে, জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এনগারাভা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। চার পেসারকে আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশকে ১১৬ রানে থামিয়ে বের করে নেন ম্যাচ।
একটি হার হয়তো সিরিজ শেষ করে না। কিন্তু একই ধরনের সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি প্রশ্ন তোলে বারবার। মিরাজের নেতৃত্বে সেই প্রশ্নগুলো এখন ধীরে ধীরে একটি স্পষ্ট প্রবণতায় রূপ নিচ্ছে। মিরাজ নিজেকে শোধরান কি-না সেটিই দেখার অপেক্ষা।










