৩৯ বছরেও সমান তালে ছুটে চলছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। দারুণ গতি আর শারীরিক সামর্থ্যের বদৌলতে করছেন গোলের পর গোল। কিন্তু কী তার এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের চাবিকাঠি? কী এমন খান তিনি? ফিটনেস ধরে রাখতে কীইবা করেন এই ফরোয়ার্ড? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
দিনের শুরুই করেন মেসি ইয়ারবা মাতে দিয়ে। দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী এই পানীয় তাঁকে দেয় প্রাকৃতিক ক্যাফেইনের জোগান। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পানও তাঁর রুটিনের অপরিহার্য অংশ। পানি, অলিভ অয়েল, পূর্ণ শস্য, তাজা ফল ও সবজি তার নৈমিত্তিক খাদ্যতালিকার অংশ। সঙ্গে থাকে বাদাম, বীজ, মাছ, মুরগি ও ডিমের মতো মানসম্মত প্রোটিন।
তবে এই নিয়ম একদিনে আসেনি। ২০১৪ সালে খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন আনেন মেসি। কমিয়ে দেন চিনি, সফট ড্রিংক, প্রসেসড খাবার, পরিশোধিত ময়দা ও অতিরিক্ত লাল মাংস। বেছে নেন সহজপাচ্য, পুষ্টিকর খাবার। ম্যাচের আগে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও হাইড্রেশনের ভারসাম্যও বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন এই তারকা।

তবু মেসি মানুষ। সুযোগ পেলে এখনো ভালোবাসেন পিৎজা, পাস্তা, রোস্ট, মিলানেসা চেখে দেখতে। মাঝেমধ্যে খান সামান্য চকোলেট, আইসক্রিম কিংবা দুলসে দে লেচে। তবে সবই পরিমিত পরিমাণে।
খাবারের মতোই পরিকল্পিত তাঁর ফিটনেস। গুরুত্ব দেন স্ট্রেচিং, কোর শক্তি, গতি ও চটপট নড়াচড়ার অনুশীলনে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় স্ট্রেচিং, স্বল্প দূরত্বের স্প্রিন্ট, অ্যাজিলিটি ড্রিল ও প্লাইওমেট্রিক ব্যায়াম তাঁকে রাখে শারীরিকভাবে চাঙ্গা। ম্যাচ শেষে দ্রুত প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও শক্তি তার পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পর্যাপ্ত ঘুমও তার পারফরম্যান্সের বড় অস্ত্র। নিয়মমাফিক বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেন মেসি। অসাধারণ প্রতিভার সঙ্গে প্রতিদিনের ছোট ছোট শৃঙ্খলিত অভ্যাসই মূলত মেসিকে নিয়ে গেছে বিশ্বসেরাদের পর্যায়ে।











