নিউজিল্যান্ডেই ভরসা রাখলো ইংল্যান্ড!

টেস্টের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে, কিন্তু ইংল্যান্ড ক্রিকেট যেন নিউজিল্যান্ডের মায়া কাটাতেই পারলো না। এক কিউইয়ের জায়গায় লাল বলের কোচের চেয়ারে বসানো হলো আরেক কিউই কিংবদন্তিকে। নাম তাঁর স্টিফেন ফ্লেমিং।

টেস্টের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে, কিন্তু ইংল্যান্ড ক্রিকেট যেন নিউজিল্যান্ডের মায়া কাটাতেই পারলো না। এক কিউইয়ের জায়গায় লাল বলের কোচের চেয়ারে বসানো হলো আরেক কিউই কিংবদন্তিকে। নাম তাঁর স্টিফেন ফ্লেমিং।

গল্পটা শুরু হয়েছিল এই মাসের শুরুতে, যখন ধারাবাহিক বাজে ফলাফল আর মাঠের বাইরের নানা অস্বস্তিকর ঘটনার বোঝা কাঁধে নিয়ে টেস্ট দলের কোচের দায়িত্ব হারাতে হয় ম্যাককালামকে, যদিও ইংল্যান্ডের সাদা বলের  দলগুলোর দায়িত্বে এখনো বহাল আছেন তিনি। টেস্ট দলের কোচের চেয়ারটা ফাঁকা পড়ে ছিল, প্রশ্ন ছিল একটাই— এরপর কে? উত্তর এলো সেই পুরনো চেনা মাটি থেকেই। ৫৩ বছর বয়সী ফ্লেমিং, যিনি কখনো কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচের চেয়ারে বসেননি, কিন্তু চেন্নাই সুপার কিংসের ডাগআউটে ১৭ বছর ধরে যিনি রচনা করেছেন সাফল্যের এক মহাকাব্য— রেকর্ড পাঁচটি আইপিএল শিরোপা তাঁর হাত ধরেই এসেছে সিএসকের ঘরে।

আর নেতৃত্বের চেয়ারে? সেখানেও নতুন কেউ নয়, ফেরা এক পুরনো মুখ। জো রুট। ২০১৭ থেকে ২০২২— পাঁচ বছরের প্রথম অধ্যায়ে যাঁর নেতৃত্বে ইংল্যান্ড রেকর্ড ২৭টি টেস্ট জিতেছিল ৬৫ ম্যাচে, বেন স্টোকসের অবসর আর ম্যাককালামের টেস্ট-বিদায়ের পর সেই রুটই আবার ফিরলেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হাতে। বৃত্তটা যেন সম্পূর্ণ হলো এক অদ্ভুত ছন্দে— যে অধ্যায় থেমে গিয়েছিল, সেটাই আবার শুরু হলো নতুন করে।

তবে এই নতুন জুটির যাত্রা শুরু হচ্ছে না একসঙ্গে। আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ফ্লেমিং থাকছেন না ডাগআউটে। ততদিনে তিনি নিউজিল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে কাটাবেন এই গ্রীষ্মের শেষ কটা দিন, তারপর যুক্তরাজ্যে পা রাখবেন। সেই সিরিজে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব সামলাবেন সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক। ফ্লেমিংয়ের আসল পরীক্ষা শুরু হবে ডিসেম্বরে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর দিয়ে।

নিয়োগের খবর জানার পর ফ্লেমিংয়ের কণ্ঠে ছিল আনন্দ আর দায়িত্ববোধের মিশেল, “এটি বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কোচিং পদ, এই দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।”

আর রুট? নতুন কোচের সঙ্গে নতুন করে পথচলা শুরুর অনুভূতিকে তিনি বললেন নিজের জন্য “বিশাল প্রেরণার” এক অধ্যায়। তাঁর ভাষায়, “দীর্ঘ সময় ধরে প্রমাণ করেছেন যে তিনি খেলাটি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন। নেতা হিসেবে তিনি অসাধারণ। তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আমি মুখিয়ে আছি।”

লাল বলের অধ্যায়ে বদল এসেছে, কিন্তু ইংলিশ ক্রিকেটের সিদ্ধান্তে নিউজিল্যান্ডের ছায়া রয়েই গেলো। সংকটের মুহূর্তে ইংল্যান্ড যেন বারবার মনে করে, ভরসার ঠিকানা একটাই— দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট্ট সেই দ্বীপরাষ্ট্র, যেখান থেকে উঠে আসা নেতারা বারবার প্রমাণ করে চলেছেন, ক্রিকেটীয় প্রজ্ঞার কোনো সীমানা নেই।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link