রড্রির শূন্যস্থান কাটাতে পারবেন বুয়াদ্দি?

আকাশি নীল জার্সি গায়ে এই তরুণ তুর্কি কি পারবেন সিটিজেনদের মাঝমাঠের শাসনভার বুঝে নিয়ে রড্রির শূন্যস্থান কাটাতে? উত্তরটা তোলা থাকল সময়ের কাছে।

সময় ফুরালে, সবারই চলে যেতে হয়। তাই দেখতে দেখতে এবার ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে স্প্যানিশ তারকা রড্রি হার্নান্দেজেরও সময় জুড়িয়ে এলো। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ২৯৮ ম্যাচ খেলে ১২টি ট্রফি জয়ের স্মৃতিকে সঙ্গী করে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনায় পাড়ি জমাচ্ছেন তিনি। কিন্তু ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গোল্ডেন বলজয়ীর এই বিশাল শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? উত্তরটা হয়তো লুকিয়ে আছে ১৮ বছরের এক মরক্কান বিস্ময় বালক আয়ুব বুয়াদ্দির পায়ে।

সাত মৌসুমে চারটি প্রিমিয়ার লিগ আর বহুলাকাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। ম্যানচেস্টার সিটির গত কয়েক বছরের প্রতিটি সাফল্যের মূল কারিগর ছিলেন রড্রি। রড্রি শুধু মাঠে স্রেফ পাস দিতেন না। তিনি অ্যাকিউরেসি আর পজেশন ধরে রাখতেন, প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বলের জোগান দিতেন কিংবা নিচে নেমে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করতেন! তাঁর কার্যকর ভূমিকাতেই ম্যাচে খেলার মোড় ঘুরে যেত ম্যান সিটির।

কিন্তু ৬৫ মিলিয়ন পাউন্ডে এই স্প্যানিশ তারকা ক্যাম্প ন্যুতে পাড়ি জমানোয় সিটির মধ্যমাঠে শূন্যতার তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ইংলিশ কমিউনিটি শিল্ড কাপের ফাইনালে আর্সেনালের কাছে ৩-০ গোলে পরাস্ত হয়ে এনজো ম্যারেস্কার দলের মাঝমাঠের নড়বড়ে অবস্থার চিত্রই যেন সামনে এসেছে!

এমতাবস্থায়, রড্রির বিকল্প খুঁজে নিতে সিটি এখন নজর রাখছে লিলির আয়ুব বুয়াদ্দির ওপর। ৮৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফির বিনিময়ে এই আফ্রিকান তরুণ তুর্কির ইত্তিহাদে আসা এখন সময়ের অপেক্ষা!

মাত্র ১৮ বছর বয়স হলেও, এই মরক্কান মিডফিল্ডার মাঠে যে ইমপ্যাক্ট সৃষ্টির সক্ষমতা রাখেন, তা তাঁর বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স থেকেই স্পষ্ট হয়েছে। সবশেষ বিশ্বকাপে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে তাঁর মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার প্রবণতার সঙ্গে রড্রির খেলার ধরনের খানিকটা সাদৃশ্য চোখে পড়ে!

তবে বুয়াদ্দি কেবল প্রতিভাধরই নন, তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। ভাসমান বলের নিয়ন্ত্রণ নিতেও সমান পারদর্শী এই তরুণ। ফুটবল বোদ্ধাদের মতে, আগামী এক দশকে ইউরোপের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হয়ে ওঠার সব সামর্থ্যই আছে ২০০৭ সালে জন্মানো এই ফুটবলারের।

মধ্যমাঠে রড্রির রেখে যাওয়া বিশাল দায়িত্বের ভার ১৮ বছর বয়সী বুয়াদ্দির পক্ষে বহন করা মোটেও সহজ নয়। তবুও আকাশি নীল জার্সি গায়ে এই তরুণ তুর্কি কি পারবেন সিটিজেনদের মাঝমাঠের শাসনভার বুঝে নিয়ে রড্রির শূন্যস্থান কাটাতে? উত্তরটা তোলা থাকল সময়ের কাছে।

 

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link