দ্য টেস্ট ব্যাটিং লিজেন্ড

সাঙ্গাকারার শেষটা যেমনই হোক, তা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করবে না! তাঁর সব অনবদ্য ব্যক্তিগত অর্জন আর রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ার হিড়িক সাঙ্গাকারাকে ক্রিকেটের অন্যতম এক টেস্ট ব্যাটিং লিজেন্ড হিসেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ঠাঁই দেবে!

কখনো দক্ষ হাতে কাভার ড্রাইভের কারিকুরি, আবার কখনো কাট আর পুল শটের উপর্যুপরি প্রয়োগে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যেতেন এক কিংবদন্তি, নাম কুমার সাঙ্গাকারা। এই লঙ্কান বাঁ হাতি ব্যাটার যখন ক্রিজে নামতেন, তখন যেন সময় থমকে যেত! তাঁর সব বড় বড় ইনিংসের কারণে প্রতিপক্ষের বোলাররা হয়ে পড়তেন ক্লান্ত!

টেস্ট ক্রিকেটের অনবদ্য এই ব্যাটিং স্তম্ভের শ্রীলঙ্কার হয়ে সাদা পোশাকে অভিষেক হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০০০ সালের ২০ জুলাই এক ত্রিদেশীয় সিরিজে। ব্যস! আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে!

ঘরের মাঠ হোক কিংবা বিদেশের মাটি। সাঙ্গাকারা সবখানেই প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর চালিয়েছেন স্টিম রোলার। দীর্ঘ ১৫ বছর লঙ্কানদের হয়ে খেলে ১৩৪ টেস্টে তিনি ৫৭.৪০ গড়ে ঝুলিতে ভরেছেন ১২ হাজার ৪০০ রান। করেছেন ৩৮ সেঞ্চুরি আর ৫২টি হাফ সেঞ্চুরি। এখানেই শেষ নয়! টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১টি ডাবল সেঞ্চুরির মালিকও কুমার সাঙ্গাকারা! তাঁর ওপরে আছেন কেবল ক্যারিবীয় কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান।

কুমার সাঙ্গাকারা তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে অমর ক্যামিও ইনিংসটি খেলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩১৯ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন এই উইকেট কিপার-ব্যাটার।

টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুটি গড়ার কীর্তি গড়ার ক্ষেত্রেও জড়িয়ে আছে এই কিংবদন্তি ব্যাটারের নাম। ২০০৬ সালে তাঁর কাছের বন্ধু ও সতীর্থ মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড ৬২৪ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন সাঙ্গাকারা, তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৮৭ রানের এক ঝকঝকে ইনিংস! জয়াবর্ধনেও সেদিন করেছিলেন ৩৭৪ রান।

এদিকে, টেস্টে রেকর্ড টানা সাত ইনিংসে অর্ধ শতক হাঁকানোর অনন্য নজিরও সাঙ্গাকারার। পাশাপাশি ইতিহাসের দ্রুততম ৯ হাজার ও ১২ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশের কীর্তিও তাঁর দখলে। উইকেটের পেছনেও সমানভাবে আলো ছড়িয়েছেন তিনি। মোট ২৩৩ ইনিংস খেলে তাঁর ডিসমিসাল সংখ্যা দুই শতাধিক।

এমন আরও বহু রেকর্ডের মালিক এই টেস্ট ব্যাটিং লিজেন্ড ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট ক্রিকেটের দীর্ঘতম ফরম্যাটকে বিদায় জানান। ভারতের বিপক্ষে সেই টেস্টটায় অবশ্য খুব বেশি জ্বলে উঠতে পারেনি তাঁর ব্যাট। প্রথম ইনিংসে ৮৭ বলে ৩২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ বলে ১৮ রান করেন তিনি। তাঁর দলও শেষ পর্যন্ত ২৭৮ রানের বড় ব্যবধানে পরাস্ত হয় সেদিন।

কুমার সাঙ্গাকারার শেষটা যেমনই হোক, তা কখনো তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করতে পারবে না! তাঁর সব অনবদ্য ব্যক্তিগত অর্জন আর রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ার হিড়িক সাঙ্গাকারাকে ক্রিকেটের অন্যতম এক টেস্ট ব্যাটিং লিজেন্ড হিসেবে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ঠাঁই দেবে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link