ভিলা পার্কে আর্তেতার নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস

উনাই এমেরির সাজানো ফাঁদকে তাদেরই ডেরায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসরে টানা জয় তুলে নিল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। ভিলা পার্কে পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্সেনাল দেখিয়েছে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ করে দেওয়া এক কোল্ড ব্লডেড ট্যাকটিক্যাল এক্সিকিউশন।

উনাই এমেরির সাজানো ফাঁদকে তাদেরই ডেরায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আসরে টানা জয় তুলে নিল মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। ভিলা পার্কে পুরো ম্যাচ জুড়েই আর্সেনাল দেখিয়েছে প্রতিপক্ষকে ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ করে দেওয়া এক কোল্ড ব্লডেড ট্যাকটিক্যাল এক্সিকিউশন।

উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলা সাধারণত কমপ্যাক্ট মিডফিল্ড ব্লক ও দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভিত্তি করে কৌশল সাজায়। কিন্তু আর্সেনাল মাঠের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পেস এমনভাবে দখল করে নেয় যে ভিলার নিজস্ব খেলার ধরণ পঙ্গু হয়ে পড়ে। আর্সেনালের এই জয়ের প্রধান ভিত্তি ছিল কেবল পজেশন ধরে রাখা নয়, বরং স্থান বা স্পেস ম্যানিপুলেট করা।

​আর্তেতা তাঁর ইনভার্টেড ফুলব্যাক শেপে বিল্ড আপ শুরু করেন, যেখানে রিক্কার্দো কালাফিওরি ও বেন হোয়াইট পজিশন সামলান এবং ডিফেন্সে গাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও ক্রিস্তিয়ান মোস্কেরা ভিলার ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দি করে রাখেন। মাঝমাঠে ডেকলান রাইস ও মাইলেস লুইস স্কেলি চমৎকার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা ভিলার মিডফিল্ড ব্লককে ক্রমাগত বিভ্রান্তিতে ফেলে দেয়।

আর্সেনালের মূল আক্রমণাত্মক চালটি ছিল সুপরিকল্পিত স্পেস লোডিং। বাঁ প্রান্তে উইঙ্গার ক্রিস্টোস জলিস ও মার্টিন অডেগার্ডকে ব্যবহার করে তারা ভিলার রাইট ব্যাক ম্যাটি ক্যাশ ও সেন্টার ব্যাক পাও তোরেসকে একপাশে চেপে ধরতে বাধ্য করে।

ম্যাচের ৫৯ মিনিটে আসা জয়সূচক গোলটি এই ট্যাকটিকেরই পাকা ফল। সেকেন্ড বল রিকভারি করে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে বুকায়ো সাকা ভিলার গোলকিপার জিওন সুজুকিকে পরাস্ত করেন।

তবে বল পায়ে না থাকা অবস্থায় আর্সেনালের প্রেস ট্রিগার ছিল আরও মারাত্মক। বল হারানোর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাই হাভেরটজদের সেই আগ্রাসী হাই প্রেসের মুখে পড়ে ভিলার উইঙ্গাররা ট্রানজিশনে ওঠার কোনো সুযোগ পাননি।

সব মিলিয়ে, ঘরের মাঠে ভিলার মতো দলকে তাদের চেনা ছকে ধরে রেখে ট্যাকটিক্যালি নি:শব্দে শ্বাসরোধ করার এক দারুণ প্রদর্শনী দেখালেন ডেভিড রায়ারা। আর্তেতা আরও একবার প্রমাণ করলেন, ডিফেন্সিভ ডিসিপ্লিন ও স্ট্রাকচারাল সুপিরিওরিটি দিয়ে কীভাবে প্রতিপক্ষের আঙিনায় আধিপত্য ছড়াতে হয়।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link