আমাদের একজন সালমা খাতুন ছিলেন!

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের বড় বড় অর্জনের কথা উচ্চারিত হয়, তখন বারবার এক অদৃশ্য মায়ায় ফিরে যেতে হয় সেই অধ্যায়ে, যেখানে আমাদের একজন সালমা খাতুন ছিলেন।

যে হাত দিয়ে কাদার ভেতর ধানখেতের লাঙ্গল ঠেলেছেন, সেই হাত দিয়েই আইসিসির বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের খেতাব তুলে ধরেছিলেন সালমা খাতুন। চাষের জমির প্রথাগত লড়াই থেকে শুরু করে মিরপুরের শেরে বাংলা কিংবা কুয়ালালামপুরের কিনরারা ওভাল – বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট বলতে যা বোঝায়, তার পুরোটাই তৈরি হয়েছিল তাঁর কাঁধে ভর করে।

২০১৪-১৫ সালে সালমা ছিলেন আইসিসি টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর তারকা। আবার ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বোলারদের তালিকায় উঠে এসেছিলেন শীর্ষস্থানে।

২০১২ থেকে ২০১৮ – দীর্ঘ ছয় বছর এই সংস্করণের শীর্ষ তিন অলরাউন্ডারের তালিকায় তিনি ছিলেন নিয়মিত নাম। গোটা বাংলাদেশ তখন গর্ব করে বলত, ‘আমাদের নারী দলেও একজন সাকিব আল হাসান আছেন।’

অনেকেই হয়তো সালমাকে ক্যারিয়ারের শেষভাগে কেবল একজন স্পেশালিস্ট বোলার হিসেবে দেখেছেন। কারণ ততদিনে নিগার সুলতানা জ্যোতি বা ফারজানা হক পিংকিদের মতো নতুন প্রজন্ম এসে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব ভাগ করে নিয়েছিল।

কিন্তু এর আগের গল্পটা ছিল একেবারেই একা লড়াইয়ের। বছরের পর বছর তিনি একা হাতেই সামলেছেন দলের ব্যাটিং ও বোলিং। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অপরাজিত ৭৫ এবং টি-টোয়েন্টিতে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংসগুলো প্রমাণ করে, ব্যাটে-বলে ঠিক কতটা বড় ভরসার নাম ছিলেন তিনি।

ধানখেতে শ্রম দিয়ে হাত শক্ত করা সেই মেয়েটির নেতৃত্বেই ২০১৮ সালে এসেছিল কুয়ালালামপুরের সেই ঐতিহাসিক সাফল্য। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিপক্ষদের হারিয়ে হাত তুলে তিনি ট্রফি ধরেছিলেন। সেদিন শুধু একটি শিরোপা আসেনি, দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সীমাহীন প্রতিকূলতার এক রাজসিক জবাব দিয়েছিল বাংলাদেশ।

​আজ এত বছর পরও পুরুষ কিংবা নারী, পুরো দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে জাতীয় দলের ক্যাবিনেটে থাকা একমাত্র বড় কোনো টুর্নামেন্টের ট্রফিটি সালমার হাত ধরেই এসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো সামনে আরও অনেক দূর যাবে, কিন্তু যখনই শূন্য থেকে উঠে এসে বিশ্বজয়ের মূল গল্পটা বলা হবে, সবাই পরম শ্রদ্ধায় একবাক্যে স্বীকার করবে – আমাদের একজন সালমা খাতুন ছিলেন!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link