দুই গোলে পিছিয়ে থাকা দলকে জেতানো সহজ কাজ নয়। কিন্তু লাউতারো মার্টিনেজের কাছে যেন এটা এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশ্বকাপের মাঠ থেকে ক্লাব ফুটবলের রাত সবখানেই এই ম্যাজিক দেখাচ্ছেন তিনি।
নাপোলির বিপক্ষে শনিবার রাতে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইন্টার মিলান। মাত্তেও পলিতানো ও রাসমুস হোইলুন্দের গোলে ম্যাচ তখন প্রায় হাতছাড়া হওয়ার পথে। এমন সময়ই জ্বলে ওঠেন ইন্টার অধিনায়ক। ৫৬ মিনিটে ব্যবধান কমান তিনি, এরপর মার্কাস থুরামের হেডে সমতা ফেরে ম্যাচে। শেষ পর্যন্ত ৯১ মিনিটে জয়সূচক গোলটিও করেন লাউতারোই। ৩-২ গোলের এই জয়ে চলতি মৌসুমে অপরাজিত থেকেই সিরি আ টেবিলের শীর্ষে উঠল ইন্টার। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে নামার আগে এই ফর্ম ইন্টারের জন্য বড় স্বস্তির খবর।
তবে এই জোড়া গোলের পেছনে বড় একটা কারণ ছিল কোচ ক্রিস্তিয়ান কিভুর একটা বদল। প্রথমার্ধে ইন্টারের খেলা তেমন জমছিল না, তখন লাউতারোর পাশে ছিলেন ফ্রান্সেস্কো পিও এসপোজিতো। বিরতির পর কিভু এসপোজিতো আর পিটার সুচিচকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান মার্কাস থুরাম আর কার্টিস জোনসকে। এই বদলে সবচেয়ে বেশি লাভ হয় লাউতারোরই। থুরাম মাঠে নামার পর তিনি নিজের চেনা জায়গায় ফিরে আসেন, আর ইন্টারের আক্রমণও আগের চেয়ে সোজাসুজি হয়ে ওঠে গোলের দিকে। ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণী দুটি গোলই আসে এই দুই ফরোয়ার্ডের বোঝাপড়া থেকে।

জোড়া গোলের রাতে ইন্টারের হয়ে সিরি আয় লাউতারোর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৩৪-এ, যা তাকে নিয়ে গেছে ক্লাবের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে। গত মৌসুমেই তিনি ছিলেন সিরি আর সর্বোচ্চ গোলদাতা, জিতেছিলেন সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারও। বয়স ২৯ পেরিয়েও তার ধারাবাহিকতায় এতটুকু ভাটা পড়েনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরও পরিণত হয়ে উঠছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে লাউতারো নিজেই খোলাখুলি বলেন, দল এখন ধীরে ধীরে পুরোপুরি ফিটনেসে ফিরছে, বেশি মিনিট খেলার সুযোগ পাচ্ছেন খেলোয়াড়রা। পিছিয়ে থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে আনার এই সামর্থ্যই গত মৌসুমে তাদের মধ্যে কম ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই কথাতেই স্পষ্ট, শুধু ব্যক্তিগত ফর্মে নয়, মানসিকভাবেও এক ধাপ এগিয়েছেন অধিনায়ক লাউতারো। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও ভেঙে না পড়ে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার যে দায়িত্ববোধ তিনি দেখিয়েছেন, সেটাই তাকে আলাদা করে তোলে।
জয়সূচক গোলের পর গ্যালারি ঘেরা বেষ্টনীতে উঠে সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপনে মাতেন লাউতারো, সঙ্গী হিসেবে পান থুরামকে। পরে মজা করে তিনি জানান, থুরাম সাধারণত এই উদযাপনে রাজি হন না, বরাবরই তাকে পাগল বলে আখ্যা দেন, তবে এদিন আর না করেননি থুরাম। ছোট এই মুহূর্তটাও বলে দেয়, মাঠের বাইরে দলের সঙ্গে তার বন্ধন কতটা গভীর।

জয়ের রাতে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি আবেগঘন এক প্রসঙ্গও উঠে আসে লাউতারোর কথায়। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের খবরে তিনি জানান, নিজেই বার্তা পাঠিয়েছেন সাবেক আর্জেন্টিনা সতীর্থকে। মেসির সঙ্গে কাটানো সময়গুলো সারাজীবন মনে থাকবে বলেও জানান তিনি।
মাঠের ভেতরে গোল করা,নেতৃত্ব দিয়ে দল কে জিতিয়ে আনা—দুটোই যেন সমান দক্ষতায় করে যাচ্ছেন লাউতারো। প্রয়োজনের মুহূর্তে ঠিক জাদুর মতোই ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার এই ক্ষমতাই তাকে আলাদা করে তুলেছে, আর সে কারণেই তাকে ম্যাজিশিয়ান বললে ভুল হবে না।












