লিওনেল মেসির পাস থেকে গোল করছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, আবার রোনালদোর অ্যাসিস্টে মেসি জালে জড়াচ্ছেন বল। কপালে ভাঁজ পড়েছে নিশ্চয়, এসব আবার কী, এও কি সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব, ফুটবলের দুই মহাতারকাকে যে দেখা যাবে একই দলের জার্সি গায়ে।
সময়ের দুই সেরা তারকাকে একসঙ্গে খেলানোর এই অসম্ভব স্বপ্নের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলের কিংবদন্তি কার্লোস তেভেজ। তার দাবি, নিজের বিদায়ী ম্যাচে মেসি ও রোনালদোকে একই দলে খেলানোর ব্যাপারে দুজনেরই সম্মতি পেয়েছেন তিনি। আর সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের ভেন্যু হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার বিখ্যাত লা বোম্বোনেরা।
মেসি ও রোনালদো, ফুটবলের গত দেড় দশকের গল্প যেন এই দুই নামকে ঘিরেই। একজন আর্জেন্টিনার জাদুকর, অন্যজন পর্তুগালের গোলমেশিন। দুজনের মধ্যে কে সেরা, এই বিতর্কে বছরের পর বছর দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে ফুটবল বিশ্ব। মাঠের লড়াইয়ে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অসংখ্যবার মুখোমুখি হলেও একই দলের হয়ে কখনো খেলেননি তারা। অথচ এবার সেই অপূর্ণতাই পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সাবেক বোকা জুনিয়র্স তারকা কার্লোস তেভেজ জানিয়েছেন, তার বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে চান এমনভাবেই, যা ফুটবল ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নেবে। মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে খেলেছেন তেভেজ। আবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে সতীর্থ ছিলেন রোনালদোর। অর্থাৎ ফুটবলের দুই মহাতারকার সঙ্গেই একই ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সেই সম্পর্ককেই এবার কাজে লাগাতে চান তেভেজ।
তেভেজের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে যোগাযোগ করেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে। নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে পর্তুগিজ তারকাকে বলেন, তার বিদায়ী ম্যাচে তিনি যেন মেসির সঙ্গে একই দলের হয়ে খেলেন। বিশ্ববাসী যেন একবারের জন্য হলেও এই দুই কিংবদন্তিকে একই জার্সিতে দেখতে পারে, এটাই ছিল তেভেজের স্বপ্ন।
আর তেভেজের দাবি, রোনালদো সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছেন। এরপর মেসিকেও রাজি করাতে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি। দুজনেই নাকি সম্মতি দিয়েছেন। ফলে সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বুয়েনস আয়ার্সের লা বোম্বোনেরায় তৈরি হতে পারে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য।

ভাবুন তো, একই মাঠে মেসি আর রোনালদো। একজনের পায়ে বল, অন্যজন ছুটছেন গোলের দিকে। মেসির পাসে রোনালদোর গোল, কিংবা রোনালদোর ক্রস থেকে মেসির ফিনিশ, এমন দৃশ্য এতদিন কেবল কল্পনাতেই দেখা গেছে। এবার সেই কল্পনাই বাস্তবে রূপ নেওয়ার অপেক্ষায়।









