নৌকার মাঝি যখন হাল ছেড়ে মাঝদরিয়ায় পথ হারায়, নৌকা তখন মাঝদরিয়াতেই ডোবে। নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে ঠিক এমনটাই হলো শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ভারতের ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় দলটি। এরপর অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ধীরে ধীরে নিজের ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারলেন না।
চামারি আতাপাত্তু আর এশিয়া কাপের ফাইনাল যেন একে অপরের সঙ্গে অতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। ২০২২ সালের ফাইনালে মাত্র ৬ রানে রান আউট হয়েছিলেন তিনি, সেবার ভারতের কাছে হেরেছিল শ্রীলঙ্কা। ২০২৪ সালের ফাইনালে নিজে দুর্দান্ত খেলেন, ৪৩ বলে করেন ৬১ রান, আর সেইবার প্রথম বারের মতো এশিয়া কাপ জিতে শ্রীলঙ্কা। এবার করলেন ৩২ বলে ৩৬ রান, আবারও অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে হারের তেতো স্বাদ পেতে হলো তাঁকে।
শুরুটা ভালো হয়নি চামারির। প্রথম ৮ বলে করতে পারেন মাত্র ১ রান। এরপর কিছুটা হাত খুলে খেলার চেষ্টা করেন, শাফালি ভার্মার এক ওভারেই একটি ছক্কা ও একটি চার মেরে রানের গতি বাড়ান। কিন্তু দীপ্তি শর্মা বোলিংয়ে আসতেই খেলার মোড় ঘুরে যায়। দীপ্তির ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে স্টাম্পড হন চামারি, ৩২ বলে ৩৬ রানে, ইনিংসে ছিল ৪টি চার আর ২টি ছক্কা।

দলে মুলত ব্যাট হাতেই তাঁর আসল কাজ, শ্রীলঙ্কার পুরো ব্যাটিং অর্ডার দাঁড়িয়ে থাকে তাঁর ওপর। সেই জায়গাতেই ফাইনালে ব্যর্থ হলেন চামারি। বল হাতে একটি উইকেট পেয়েছেন ঠিকই, তবে খরচ করেছেন ৪ ওভারে ৩৪ রান। অধিনায়ক হিসেবে ভারতের ওপেনিং জুটিকেও থামাতে পারেননি পুরো ম্যাচে। স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা প্রথম উইকেটে তোলেন ১২৯ রান, সেখানেই মূলত ম্যাচের ভাগ্য ঠিক হয়ে যায়।
অথচ পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে দুর্দান্তই ছিলেন চামারি, ছিলেন প্রতিযোগিতার ২য় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। কিন্তু যে কাজটা তাঁর দলের সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল, ব্যাট হাতে বড় ইনিংস, সেটাই এলো না ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে আরেকটি বড় মঞ্চে খালি হাতে ফিরতে হলো শ্রীলঙ্কার অধিনায়ককে, আর ৭২ রানের হারে দলও হারাল শিরোপা।











