দ্য ম্যানচেস্টার ইজ ব্লু!

রাতের ম্যানচেস্টার যখন ঘুমোতে যাবে, তখন তার লাল অংশটুকু থমকে থাকবে নিস্তব্ধতায়, আর আকাশী নীল অংশ মেতে উঠবে জয়ের উৎসবে।

ওল্ড ট্র‍্যাফোর্ডের ঘাসে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে লেখা হলো এক রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্য। ম্যাচের ২২তম মিনিটে ফিল ফোডেন সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যানচেস্টার সিটির পরাজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরে নিয়েছিলেন সমর্থকেরা। কিন্তু প্রায় ৭০ মিনিট দশ জন নিয়ে খেলে, প্রতিপক্ষের একের পর এক আক্রমণ সামলে এবং নিখুঁত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ১-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে এঞ্জো মারেস্কার ম্যানচেস্টার সিটি।

ফিল ফোডেন মাঠ ছাড়ার পরপরই এঞ্জো মারেস্কা তাঁর কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনেন। পজেশন ভিত্তিক ফুটবল থেকে সরে এসে সিটি দ্রুত চার-চার-এক মিড-টু-লো ব্লকে অবস্থান নেয়।

আর্লিং হাল্যান্ডকে মাঝমাঠের ঠিক সামনে একাকী প্রেসিংয়ের দায়িত্বে রাখা হয়, যেন ইউনাইটেডের সেন্টার ব্যাকরা সহজে ওপরে উঠে আক্রমণ শুরু করতে না পারে। একই সাথে দুই উইঙ্গারকে ডিফেন্সিভ লাইনের কাছাকাছি নামিয়ে এনে প্রতিপক্ষকে ফ্ল্যাঙ্ক দিয়ে বক্সে ক্রস করার সব রাস্তা বন্ধ করে দেন মারেস্কা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সাধারণত বক্সের বাইরের হাফ স্পেস ব্যবহার করে বিপজ্জনক আক্রমণ তৈরি করে। কিন্তু মারেস্কার সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার এবং ডিফেন্ডাররা মাঝমাঠের একদম কেন্দ্রভাগ নিরেট করে ফেলেন। ফলে ইউনাইটেডের বল পজেশন ৭০ শতাংশের ওপরে থাকলেও, তারা অধিকাংশ সময় কেবল নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ডের ভেতর নিরর্থক পাস খেলতে বাধ্য হয় এবং সিটির জমাট রক্ষণভাগে কোনো ফাটল ধরাতে পারেনি।

পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলেও রূপান্তরের সময় বা ট্রানজিশনে সিটি ছিল মারাত্মক নিখুঁত। ৫৯তম মিনিটে ম্যাচের জয়সূচক একমাত্র গোলটি আসে টেক্সটবুক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একটি ব্যর্থ আক্রমণের পর অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁত পাসের মাধ্যমে সিটির খেলোয়াড়েরা বল নিয়ে ওল্ড ট্রাফোর্ডের রক্ষণভাগে হানা দেয়। ডানপ্রান্ত থেকে জোসকো গাভার্দিওলের বাড়ানো নিখুঁত ক্রস দারুণ দক্ষতায় জালে জড়ান হাল্যান্ড।

​এর পাশাপাশি শেষ আধা ঘণ্টায় গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোন্নারুম্মার অসাধারণ কয়েকটি সেভ এবং বুদ্ধিদীপ্ত টাইম ম্যানেজমেন্ট ইউনাইটেডের আক্রমণের যাবতীয় গতি ভেঙে দেয়।

দশ জনের রক্তক্ষয়ী লড়াই, প্রতিটি ঘাসের কোড দিয়ে গড়ে তোলা জমাট ডিফেন্স আর কাউন্টার অ্যাটাকের সেই এক চিলতে আলো। সব মিলিয়ে লড়াইটা শুধু তিন পয়েন্টের ছিল না, ছিল শহরের আধিপত্যের। রাতের ম্যানচেস্টার যখন ঘুমোতে যাবে, তখন তার লাল অংশটুকু থমকে থাকবে নিস্তব্ধতায়, আর আকাশী নীল অংশ মেতে উঠবে জয়ের উৎসবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link