কেন আর্সেনাল এক গোল হজমেই ভেঙে পড়ে?

মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল যখন ক্লিনশিট রেখে ম্যাচ বের করে আনে, তখন তাদের রক্ষণভাগকে বিশ্বসেরা মনে হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে প্রথম গোল হজম করার পরপরই।

মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল যখন ক্লিনশিট রেখে ম্যাচ বের করে আনে, তখন তাদের রক্ষণভাগকে বিশ্বসেরা মনে হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে প্রথম গোল হজম করার পরপরই। এক গোল খাওয়ার পর ডিফেন্সের সেই ইস্পাতদৃঢ় শৃঙ্খলা হারিয়ে একের পর এক গোল হজম করার প্রবণতা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং এটি আর্সেনালের একটি সুনির্দিষ্ট ট্যাকটিক্যাল ও মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতা।

​ট্যাকটিক্যালি আর্সেনালের রক্ষণের মূল ভিত্তি হলো তাদের অত্যন্ত সংকুচিত লো ব্লক স্ট্রাকচার। প্রতিপক্ষকে বক্সের বাইরে আটকে রেখে পজেশন নিয়ন্ত্রণ করাই আর্তেতার মূল ছক। কিন্তু গোল হজম করার পর বাধ্য হয়েই আর্সেনালকে তাদের কমপ্যাক্ট খোলস ছেড়ে বের হতে হয়।

ফলে ডিফেন্সে এতক্ষণ ধরে রাখা সুসংগঠিত শেপটি প্রসারিত  হয়ে যায়। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ডিফেন্স ও মিডফিল্ডের মাঝের ফাঁকা জায়গা অরক্ষিত হয়ে পড়ে, যা প্রতিপক্ষকে প্রতি আক্রমণে দ্রুত জায়গা বের করার সুযোগ করে দেয়।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই অতি নিয়ন্ত্রিত ডিফেন্সিভ ফুটবলের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। নিয়মিত ০-০ বা ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে অভ্যস্ত দলগুলোর কাছে হঠাৎ গোল হজম করাটা বিশাল এক ধাক্কা হিসেবে আসে।

গোল খাওয়ার পর খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও তাড়াহুড়ো তৈরি হয়। তারা কি ডিফেন্সিভ শেপ ধরে রেখে ধীরে সুস্থে এগোবে, নাকি দ্রুত গোল শোধ করতে ওপরে উঠবে? এই ট্যাকটিক্যাল অসামঞ্জস্যতার সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাক-টু-ব্যাক আক্রমণ চালিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়।

​ব্রাইটনের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ৩-০ গোলের হারটি এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। প্রথম ৩১ মিনিট পর্যন্ত টাইট ডিফেন্স ধরে রাখলেও পাস্কাল গ্রোসের দূরপাল্লার শটে প্রথম গোল হজম করতেই আর্সেনালের ট্যাকটিক্যাল শেপ পুরোপুরি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

গোল শোধের তাড়নায় আর্সেনাল ওপরে উঠতেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে এক দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দ্বিতীয় গোল হজম করে তারা। আর ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে সেই মনস্তাত্ত্বিক ধস এতটাই স্পষ্ট হয় যে, নিজেদের শক্ত স্থান সেট পিস থেকেও তারা ৩-০ গোলের বড় হার নিশ্চিত করে ফেলে।

​সংক্ষেপে, মিকেল আর্তেতার কঠোর নিয়ম ও কাঠামোভিত্তিক ফুটবল যতক্ষণ দল সমতায় থাকে বা এগিয়ে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত অসাধারণ কার্যকর। কিন্তু প্রথম গোল হজমের পর বিকল্প প্ল্যান ‘বি’ বা মানসিক স্থিতিশীলতার অভাবে একের পর এক গোল হজম করাটাই এখন আর্সেনালের সবচেয়ে বড় ট্যাকটিক্যাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link