রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে কানপুর টেস্টের পর সাকিব আল হাসানকে আর দেখা যায়নি বাংলাদেশের জার্সিতে। এরপর থেকেই দলে তৈরি হয়েছে অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের শূন্যতা। বল হাতে উইকেট শিকারের পাশাপাশি যুগপৎভাবে ব্যাট হাতে দলকে টেনে তোলার যে অভূতপূর্ব সামর্থ্য সাকিবের ছিল, তা আজও কোনো টাইগার অলরাউন্ডারের মধ্যে বিকশিত হয়নি আর। এই পরিস্থিতিতে, সাকিবের মতোই নতুন একজন দক্ষ বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডারের খোঁজে রয়েছে বাংলাদেশ।
দীর্ঘ আট বছর পর চলতি বছরে ফের চালু হওয়া রবি বোলার হান্টকে ঘিরে তাই বেশ আশাবাদী বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে এই পাকিস্তানি কোচ বলেছেন, “বোর্ডের নির্বাচক ও কোচরা এমন একজন বাঁহাতি স্পিনারের খোঁজে আছেন, যে একইসঙ্গে ব্যাটিংয়েও ভালো অবদান রাখতে পারবেন। আমাদের হাতে অবশ্য বেশকিছু তরুণ খেলোয়াড় আছেন। পাশাপাশি, বেশ কয়েকজনকে আমরা গড়েও তুলছি।”
বর্তমানে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসান নিয়মিত স্পিন বিভাগের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। আর সাদা বলের সম্ভাবনাময়ী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। কিন্তু, মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে পর্যাপ্ত রান তোলায় তাঁদের কেউই তেমন ধারাবাহিক হতে পারেননি।

অবশ্য, পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশ এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিব ও খালেদ আহমেদরা গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে নিয়মিত নাস্তানাবুদ করছেন। কিন্তু পেস আক্রমণের এই সাফল্যের মাঝেও স্পিন অলরাউন্ডারের গুরুত্ব ফিকে হয়ে যায়নি। মুশতাকের ভাষায়, আমাদের ঘণ্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করার মতো ক্রিকেটার আছেন। তাই এখন সবচেয়ে দরকার এমন একজন বাঁহাতি স্পিনার ও ব্যাটার, যিনি উভয় শাখাতেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ভারসাম্য ধরে রাখতে পারবেন।”
তবে, সাকিবের মতো বিশ্বমানের অলরাউন্ডার রাতারাতি গড়ে তোলা চাট্টিখানি কথা নয়। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সাড়ে ১৪ হাজারের ওপর রান করেছেন সাকিব আল হাসান। ১৮ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ৭১২টি উইকেটও পেয়েছেন তিনি।
টাইগার স্পিন কোচ মুশতাক তাই ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “একদিনেই কোনো মহীরুহ বড় হয়ে ওঠে না। আমাদের সামর্থ্য আছে এবং খেলোয়াড়রাও আছেন। এখন আমাদেরকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যেতে হবে তাঁদের ওপর বিশ্বাস রেখে।”
এদিকে, রবি বোলার হান্ট থেকে নির্বাচিত তরুণদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই উদ্যোগ কি সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরবর্তী সাকিবকে খুঁজে পাবে? সময়ই দেবে সেই জবাব!











