ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে একই স্কুলে পড়াশোনা, একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা তাঁর। করেছেন একসঙ্গে ব্যাটিংও। এমনকি, তাঁর ব্যাটের ধার শচীন টেন্ডুলকারের চেয়েও বেশি ছিল বলে মনে করতেন অনেকে। খোদ সাবেক ভারতীয় বিশ্বজয়ী অধিনায়ক কপিল দেবের মতে, ক্রিকেটীয় প্রতিভায় তিনি শচীনকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু, নিয়তির লিখন যায় না খণ্ডন! জীবন কখনো কখনো কিছু মানুষকে ঠেলে দেয় তুমুল অনিশ্চয়তা আর ট্র্যাজেডির মঞ্চে। তিনি বিনোদ কাম্বলি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক ভিডিওতে সাবেক এই তারকাকে দেখা গেছে একটি বৃদ্ধাশ্রমে। ভিডিওটিতে নিজের বাড়ির মতো পরিবেশ বলে আশ্রমটির নানা সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন ৫৪ বছর বয়সী কাম্বলি!
এরপর থেকেই নেটিজেনরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেন। সহপাঠী শচীন এখন ক্রিকেট দুনিয়ার ঈশ্বর বলে পরিচিতি পেলেও, তাঁর এই করুণ পরিণতি যেন কিছুতেই মানতে পারছেন না দর্শকরা। এমনটা কি কখনো হবার ছিল?

আশির দশকের মাঝামাঝি সময়েই শচীনের সঙ্গে স্কুল পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা শুরু করেন কাম্বলি। শচীনের টেস্ট অভিষেকের তিন বছর পর ভারতের সাদা পোশাক গায়ে জড়ান তিনি।
বয়সভিত্তিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ আশা জাগালেও কাম্বলির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থমকে যায় মাত্র ১৭টি টেস্ট আর ১০৪টি ওয়ানডে খেলেই। টানা ফর্মহীনতা তাঁকে আর ২০০০ সালের পর ভারত দলে জায়গা করে দেয়নি। টেস্টে ১ হাজার ৮৪ ও একদিনের ক্রিকেটে ২ হাজারের ওপর রান করেন তিনি। আছে চারটি টেস্ট ও দুটি ওডিআই সেঞ্চুরিও।
এরপর ডমেস্টিক ক্রিকেটেই থিতু হন তিনি। প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ১০ হাজার রান করার পাশাপাশি ৩৪টি সেঞ্চুরির মালিক হন কাম্বলি ঘরোয়া আসরে। পাকাপাকিভাবে, ক্রিকেট ছাড়েন ২০১১ সালে।

জীবন সত্যিই সবার জন্য সমান নয়। একই উঠানে বেড়ে উঠলেও নিয়তি সবাইকে অভিন্ন গন্তব্যে পোঁছে দেয় না। এ সত্যটাই ফুটে ওঠে কাম্বলির বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে।
কাম্বলি বর্তমানে স্মৃতিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁর বন্ধু ও সাবেক আম্পায়ার মার্কাস কৌতো। সম্প্রতি, গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে মুত্রথলির সংক্রমণ নিয়ে থানেতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই কাম্বলির মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। তার স্মৃতিশক্তি ভালো নেই।’ অবশ্য, কাম্বলির স্ত্রী আন্দ্রেয়া হিউইট এই দাবিকে স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
নিয়তির নিষ্ঠুর বাস্তবতার মাঝে তাই কাম্বলি এক ট্র্যাজিক মহাকাব্য হয়ে উঠেছেন। ক্রিকেট আকাশের এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের শেষ দৃশ্যটা এখন ছেয়ে আছে শুধুই নীরব দীর্ঘশ্বাসে!











