মাটি থেকে শূন্যে লাফ দিয়ে উঠলেন। যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলবেন। অবশ্য সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে যে উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন, আকাশটা বেশি দূরে নয় টেম্বা বাভুমার জন্য। এক উপেক্ষিত সত্তা যখন গর্জন তোলে, হুঙ্কারটা এরকমই হয় বুঝি। অস্ট্রেলিয়ার প্রতাপশালী বোলিং আক্রমণকে শাসন করে বাভুমা বুঝিয়ে দিলেন, ছোট মরিচের ঝালটা একটু বেশি।
ওয়ানডে ক্রিকেটে আন্ডাররেটেড ব্যাটারদের একজন হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন আগেই। ট্রল-সমালোচনা তার জীবনের সঙ্গী হয়ে পাশে থেকেছে। এসব কাঁধে নিয়েই বাইশ গজে ছোটা ছোটখাটো বাভুমা তবুও অদম্য, অপ্রতিরোধ্য।
চাপ যখন চেপে বসে তখন কী করতে হয়? এক কথায় উত্তর বাভুমা হয়ে যেতে হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা আশানুরূপ হয়নি। ৩৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ম্যাথিউ ব্রিজকিও বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। অগত্যা একটা অদৃশ্য চাপের বলয় ঘিরে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে।

পরের গল্পের নায়ক টেম্বা বাভুমা। তরী ঢুলিতেছে মাঝসমুদ্রে, কাণ্ডারির হাতে ধরা হাল। লক্ষ্য একটাই, পেতে হবে তীরের সন্ধান। একটু একটু করে ইনিংস গড়ে তুললেন বাভুমা। শান্ত-শীতল নদী বয়ে যাচ্ছে যেন চুপিসারে। বোলারদের সামনে এক দেয়াল দাঁড় করালেন। যা ভেদ করে উইকেট তোলা অসম্ভব।
ফিফটি এলো, তবে কাজের কাজ তখনও হয়নি। দূর থেকে তীর দেখা যাচ্ছে, তবে সেখানে যে যাওয়া চাই। চলতে চলতে শতকের ছোঁয়া পেলেন বাভুমা। ক্যারিয়ারে এটা ছয় নম্বর। লাফিয়ে উঠে উদযাপন তাই না করলেই যে নয়।
পুরো ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ অস্ট্রেলিয়ার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছেন। বাইশ গজে ছোট-বড় বলে কিছু নেই, যা শাসন করতে পারে সেই শাসক। বাভুমার ব্যাট রাজদণ্ড হয়ে শাসন করেছে অস্ট্রেলিয়াকে। তীরহারা ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিয়ে, শতক হাঁকিয়ে তবেই সাজঘরে ফিরেছেন দ্য গ্রেট বাভুমা।











