একটা সময় নিয়মিত ব্যাট করতেন লোয়ার মিডল অর্ডারে, ছয় কিংবা সাত নম্বরে। এরপর গত কিছুদিন ধরে দলের প্রয়োজনে নামছিলেন ওপেনিংয়ে। যেন তাঁর পরীক্ষা চলছিল সেই পরীক্ষায় সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সবচেয়ে ভালো সিজিপিএ নিয়ে পাশ করলেন।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিটা করলেন, আর সেটা করার জন্য বেছে নিলেন ভারতকেই। কতজন ক্রিকেটার এমন সুযোগ পান, প্রথম শতরানের জন্য এমন একটা মঞ্চ বেছে নেওয়ার
শুরু থেকেই পাত্তা দেননি ভারতের কোনো বোলারকে, দেওয়ার কথাও না।কয়েকজন বাদে বাকি বোলাররা বেশিরভাগই অলরাউন্ডার, যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাত্তা না দিয়েই ভারত তাদের মূল বোলিং আক্রমণ পাঠিয়ে দিয়েছে এশিয়ান গেমসে টি-টোয়েন্টি খেলতে। সেই আন্ডারএস্টিমেট করার শোধটা ব্যাট হাতেই তুললেন গ্রিভস। নিতিশ কুমার রেড্ডির এক ওভারেই মারলেন চারটে বাউন্ডারি, ইনিংসের শুরুতেই বুঝিয়ে দিলেন আজ তার দিন।

সঙ্গী জন ক্যাম্পবেলের সাথে গড়লেন ইতিহাস গড়া এক ওপেনিং জুটি। ১৩৫ রানের এই জুটি ভারতের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের তৃতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং পার্টনারশিপ, শুধু গ্রিনিজ-সিমন্স আর গ্রিনিজ-হেইন্সের মতো কিংবদন্তি জুটিই এগিয়ে আছেন তার চেয়ে। ভাবা যায়, আশির দশকের সেই কিংবদন্তিদের পাশে আজ নাম বসালেন গ্রিভস আর ক্যাম্পবেল
ইনজুরি নিয়েই খেলে গেছেন পুরো ইনিংস। শুরুর দিকেই বা পায়ের গোড়ালি তে ব্যথা পেয়ে ফিজিওর কাছে যেতে হয়েছিল, পরে পাওয়ারপ্লের সময় আবারও চিকিৎসা নিতে হয় একই জায়গায়, দৌড়ানোর গতিও তখন কমে গিয়েছিল খানিকটা। ইনিংসের শেষদিকে ডান হাতেও ম্যাসাজ নিতে হয়েছে। তবু ব্যাট থামেনি। স্পিনারদের বিপক্ষেও সমান স্বচ্ছন্দ, সুইপ, রিভার্স সুইপ, সব শট খেলেছেন অবলীলায়
সেঞ্চুরি যখন এলো, তখন হেলমেট খুলে ব্যাট তুললেন আকাশের দিকে। সতীর্থ আমির জাঙ্গু জড়িয়ে ধরলেন তাকে, ডাগআউটে ক্যাপ্টেন স্যামির মুখে চওড়া হাসি। ৩২ বছর ২১৩ দিন বয়সে এই সেঞ্চুরি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে অভিষেক ওয়ানডে সেঞ্চুরির তালিকায় তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিলেন, ক্লেটন ল্যাম্বার্ট আর শামার ব্রুকসের পরেই। দেরিতে হলেও যে সেঞ্চুরি এসেছে, সেটা যেন প্রমাণ করলো সময় কখনো কখনো দেরি করে আসলেও ন্যায্য পাওনা মিটিয়ে দেয়।

শেষ পর্যন্ত ১০৮ বলে ১০১ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন গ্রিভস। ইনিংসে ছিল ১২টা চার। লোয়ার অর্ডার থেকে ওপেনিংয়ে উঠে আসার যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল দল, আজ ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষেই সেই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেটটা পেয়ে গেলেন জাস্টিন গ্রিভস।











