ক্রোয়েশিয়ার আস্থা এখনও লুকা মড্রিচই

বয়সের কোটায় ৪১ স্পর্শ করলেও মাঠের খেলায় এখনও অনন্য লুকা মড্রিচ। উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারানোর পর পুরো গ্যালারির নজর ছিল কেবল তাঁর ওপর। 

ফুটবলের আধুনিক ব্যাকরণে বয়স নাকি পারফরম্যান্সের সবচেয়ে বড় নিয়ামক। তবে বয়সের কোটায় ৪১ স্পর্শ করলেও মাঠের খেলায় এখনও অনন্য লুকা মড্রিচ। উয়েফা নেশনস লিগে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারানোর পর পুরো গ্যালারির নজর ছিল কেবল তাঁর ওপর।

স্বাগতিক চেকদের টানা প্রেসিং ও জমাটবদ্ধ প্রতিরক্ষার সামনে প্রথমার্ধে যখন ক্রোয়াটদের আক্রমণ থমকে যাচ্ছিল, তখন কাণ্ডারীর ভূমিকায় আবির্ভূত হন অধিনায়ক মড্রিচ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই প্রতিপক্ষের রক্ষণের কিছুটা ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে সেন্টার অব দ্য থেকে এক নিখুঁত শটে গোল করেন তিনি। এই একক নৈপুণ্যই স্তব্ধ করে দেয় ফরচুনা এরিনাকে এবং ক্রোয়েশিয়াকে এনে দেয় কাঙ্ক্ষিত ছন্দ।

​ম্যাচশেষে সামনে আসা পারফরম্যান্স পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে বোঝার উপায় নেই যে এই ফুটবলার চার দশকেরও বেশি সময় ধরে জীবনের পথ হাঁটছেন। ৮.৪ রেটিং নিয়ে ম্যাচের সর্বোচ্চ রেটেড খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। পুরো ম্যাচে তাঁর পাসিং অ্যাকুরেসি ছিল ৯২ শতাংশ। ৬৬টি পাসের চেষ্টা করে ৬১টি পাসই তিনি সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছেন।

ম্যাচের আসল চিত্র লুকিয়ে ছিল প্রতিপক্ষের অর্ধে তাঁর পাসিং দক্ষতায়। চেকদের কড়া প্রেসিং বলয়ের ভেতর দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের অর্ধে ৪৮টি পাস বাড়িয়ে ৪৩টিতেই সফল হয়েছেন মড্রিচ, যার সাফল্য হার ৯০ শতাংশ। নিজের অর্ধে তাঁর বাড়ানো ১৮টি পাসের প্রতিটিরই সাফল্য হার শতভাগ।

মাঠের হিটম্যাপ ও পাসিং নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মড্রিচ সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে কেবল অলঙ্কার হয়ে ছিলেন না। ডিফেন্সিভ থার্ডে নেমে বল রিকভার করা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাইনাল থার্ডের বল বাড়ানো – সবখানেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। চেকদের তরুণ মিডফিল্ডাররা যখন ক্লান্তিতে গতি হারাচ্ছিলেন, মড্রিচ তখন নিজের অভিজ্ঞতা আর দূরদর্শিতা দিয়ে খেলার গতি কমানো-বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন একক দক্ষতায়।

শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ডে ২-১ ব্যবধানের জয়টিই শেষ কথা নয়। শেষ কথা হলো, আন্তর্জাতিক ফুটবলের তুমুল প্রতিযোগিতার মাঝেও একজন ৪১ বছর বয়সী কীভাবে দলের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link