মেসির ফ্রি-কিক রূপকথা!

একটা ফ্রি-কিক। জায়গাটা এমন, যেখান থেকে গোলের চেয়ে ক্রস করে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়াটাই বেশি স্বাভাবিক। গোল থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে, ডান প্রান্ত ঘেঁষা সেই ৩০ ডিগ্রির কোনাকুনি জায়গায় দাঁড়িয়ে বলের সামনে লিওনেল মেসি।

একটা ফ্রি-কিক। জায়গাটা এমন, যেখান থেকে গোলের চেয়ে ক্রস করে সতীর্থকে খুঁজে নেওয়াটাই বেশি স্বাভাবিক। গোল থেকে প্রায় ৩০ গজ দূরে, ডান প্রান্ত ঘেঁষা সেই ৩০ ডিগ্রির কোনাকুনি জায়গায় দাঁড়িয়ে বলের সামনে লিওনেল মেসি। গোলপোস্টটা ভালো করে দেখা যায়। কিন্তু বলটা যখন মেসির পায়ে, তখন অসম্ভব বলে আর কিছু থাকে না। কলম্বাস ক্রুর বিপক্ষে ম্যাচের ৩৩তম মিনিটে ঠিক সেটাই করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। অবিশ্বাস্য গোল করে বিস্ময় জাগালেন গোটা বিশ্বে।

বাম পায়ের জাদুকরী শট। প্রথমে মনে হলো বলটা বুঝি গোলের ওপর দিয়েই চলে যাবে। তারপর শেষ মুহূর্তে বল নামতে শুরু করল। গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে ছুটে গিয়ে আশ্রয় নিল জালের ঠিক কোণায়। এক মুহূর্তে স্তব্ধ কলম্বাসের গ্যালারি, আর পরের মুহূর্তেই মেসির গোল উদযাপনে মুখর মিয়ামির ডাগআউট।

মেসি যেন কোন মন্ত্রবলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ। বিধাতা তাঁকে ফুটবলের জাগতিক সব ক্ষমতায় উজাড় করে দিয়েছেন। ম্যাজিশিয়ান, তো একেই বলে। চোখ টেনে রাখে জাদু দিয়ে যে। বছরের পর বছর ধরে এই একই নিয়মে বয়ে গেছেন মেসি, সমর্থকরা যে তাঁকে ভালোবেসে ভুল করেনি। তাই তো ১৯-এর মেসি যেমন অনন্য, ৩৯-এর মেসি অনবদ্য।

ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে কলম্বাসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন হোসে মার্তিনেজ। পিছিয়ে থাকা মিয়ামিকে সমতায় ফেরানোর দায়িত্বটা তখন যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন মেসি। আর সেটাও করলেন এমন এক ফ্রি-কিকে, যেটাকে গোল বানাতে হলে দরকার হয় অসম্ভবকে সম্ভব করার ক্ষমতা।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সান ডিয়েগোর বিপক্ষেও ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন মেসি। সেই গোলটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের ৭৫তম ফ্রি-কিক গোল। আর কলম্বাসের বিপক্ষে এই গোলটি তাঁর ফ্রি-কিক গোলের সংখ্যা নিয়ে গেল ৭৬-এ, ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের রেকর্ডের আরও কাছে।

৩৯ বছর বয়সেও একই গল্প। সময় বদলায়, দল বদলায়, প্রতিপক্ষ বদলায়, কিন্তু মেসির পায়ের জাদু বদলায় না। গোলের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি এখনও এমন সব কোণ খুঁজে নেন, যা কেউ ভাবতে পারে না।

প্রায় ৩০ গজ দূরত্ব, অসম্ভব কোনাকুনি অবস্থান, সামনে প্রতিপক্ষের দেয়াল, সবকিছুকে তুচ্ছ করে আবারও মেসি দেখালেন, তিনি যদি কিছু চান সেটা আদায় করে নেন। বল যখন মেসির পায়ে, তখন সে নিয়েই সঠিক পথ খুঁজে নেয়। যদিও এমন দিনে মেসির মিয়ামিকে হারতে হয়েছে ২-১ ব্যবধানে। তবুও সেই মনোমুগ্ধকর ফ্রি-কিক পরাজয়ের ক্ষতের ওপর একটুখানি প্রলেপ এঁটে দিল। আর মনে করিয়ে দিল, মেসি ফুটবলের এক অসীম বিস্ময়!

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link