ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪০৫ তুলে হয়তো ভেবেছিল, প্রথম ম্যাচের হারের শোধ আজ নেওয়া যাবে। দুই সেঞ্চুরিতে সাজানো ইনিংসটা ছিল ওয়ানডেতে তাদের সর্বোচ্চ স্কোর। কিন্ত দুর্ভাগ্য জনকভাবে ভারত নেমেছিল তাদের রেকর্ড বই এর অনেক গুলো পাতা নতুন করে লিখতে আর সোনার কলম দিয়ে সেটা লিখেছেন শুভমান গিল আর রোহিত শর্মা।!
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস এর পর বিরতিতেও গিলের মুখে হাসে মুছেনি, যেন এত বড় রান এর টার্গেট কে তিনি পাত্তাই দিচ্ছিলেন না, সেই হাসির মানে বোঝা গেল খানিক পরেই। ১০ ওভারে ৯২, ২৫ ওভারে ২৫০, আর ২৯.১ ওভারে ৩০০, ওয়ানডেতে যে কোনো দলের দ্রুততম তিনশ রান এইটি ।
রোহিত ৭৫ বলে ১০১ করে লেগ বিফোরে ফিরলেন, ততক্ষণে ওপেনিং জুটি ২৫৫ রানের, ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে এটাই সর্বোচ্চ জুটি।

গিল তখনও থামেননি। ৬২ বলে সেঞ্চুরি, ৮৯ বলে দেড়শো, ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ওয়ানডেতে যা সবচেয়ে দ্রুত। মাঝখানে মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত গরম আর ম্যাচের প্রেসারে টায়ার্ড হয়ে গিয়েছেন তিনি, পায়ে ক্র্যাম্প এর জন্যে মাসাজও নিলেন কিন্ত ব্যাট অন্য কথা বলছিল শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩, সঙ্গে ২৬ চার আর ৮ ছক্কা। কোহলি ১৯ বলে ২৯ করে ফিরলেন, আর জয়ের রানটা এল ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের ব্যাটে।
৪০০ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা ওয়ানডেতে এই দ্বিতীয়বার, এর আগে ২০০৬ সালে করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় সফল চেজ। এই ম্যাচে মোট পাঁচ সেঞ্চুরি হলো, ওয়ানডেতে যা আগে কখনো হয়নি, আর দুই দল মিলিয়ে ৮১১ রান ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ। ৩৯ বল হাতে রেখে জিতল ভারত, ২০১৩ সালে জয়পুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ঠিক এত বলই বাকি ছিল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ যা করেছে, অন্য যেকোনো দিন সেটা জেতার মতো ছিল। আজ শুধু ভুল দিনে ভুল প্রতিপক্ষের সামনে পড়েছিল।












