ডন ব্র্যাডম্যান যদি ওয়ানডে খেলতেন, হয়তো এভাবেই খেলতেন। গুয়াহাটি তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ রান তুলেছিল ৪০৫, ভারতের সামনে লক্ষ্য ৪০৬।এমন পাহাড় দেখে সবাই যখন চুপ, গিল তখন হাসছিলেন। ইনিংস বিরতিতে চেয়ে নিলেন ভারী রোলার, যেন আগেই জানতেন কাজটা শেষ করবেন তিনিই।
এরপর কেবল রেকর্ডের সব পাতায় নিজের নাম বসানোর মিশন শুরু করলেন ধীরে সুস্থে, ম্যাচ শেষ হতে হতে যা করলেন, তা এখন ইতিহাস।
৬২ বলে সেঞ্চুরি, টানা তৃতীয় ওয়ানডে শতক দেশের মাটিতে। ৮৯ বলে দেড়শো, ভারতীয়দের মধ্যে দ্রুততম, সেখানেই কি থামলেন? একদমই না,১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ওয়ানডের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত, ইশান কিষানের ১২৬ বলের রেকর্ড ভেঙে দিয়ে। পায়ে ক্র্যাম্প এর জন্যে শুয়ে পরলেন, ফিজিও এসে ম্যাসাজ করলেন, তবু থামানো গেল না তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩, মারলেন ২৬টি চার আর ৮টি ছক্কা।

রোহিত শর্মার সঙ্গে ওপেনিং জুটিতে এল ২৫৫ রান, ভারতের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রান তাড়ায় ওয়ানডেতে এটাই এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস, ধোনির ১৮৩ তো অনেক আগেই পেছনে পড়ে গেছে, একাধিক ওয়ানডে ডাবল সেঞ্চুরিতে গিল এখন দুইয়ে, তাঁর সামনে শুধু রোহিত। অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট আর ওয়ানডে দুই ফরম্যাটেই ডাবল সেঞ্চুরি করা প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি।
৬৮ ইনিংসে ৩৭১২ রান, গড় ৬৪, স্ট্রাইক রেট ১০৩.৪৬। ১১ সেঞ্চুরি করতে লেগেছে মাত্র ৬৮ ইনিংস, কোহলির লেগেছিল ৮২, রোহিত আর বিরাটের বয়সে যেতে যেতে গিল ঠিক কোন উচ্চতায় যাবেন সেটা হয়ত কেবল গিলই ঠিক করবেন।
ওয়ানডের ইতিহাসে ৪০০ ছাড়ানো লক্ষ্য তাড়া করে জেতার ঘটনা এই নিয়ে মাত্র দুটি,প্রথমটি ২০০৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৮ রান, দ্বিতীয়টি গিলের এই রাত, আর ভারতের জন্য এটাই প্রথম। অধিনায়ক যখন দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নেন, তখন সামনে কিছুই দাঁড়াতে পারে না। ভবিষ্যতের কোহলি বলে তাঁকে আটকে রাখার দিন শেষ, গিল এখন নিজেই বর্তমান।












