বনের আহত বাঘ, ক্ষুধার্থ। শরীরে সেই আগের পাশবিক জোর নেই। তবে, শরীরে জান তো আছেই। বুকের মধ্যে ক্ষুধাটা আছে। আছে তারুণ্যের মাঝে নিজেকে প্রমাণ করার অভাবনীয় জেদ।
সেই অভাবনীয় জেদের নাম রোহিত শর্মা, দ্য হিটম্যান। ইনিংস শেষ করার আগে যার শেষ লিখে ফেলা যায় না – সেই হিটম্যান। যার বিপক্ষে বল করতে আজও হাঁটুর বয়সী ছোকড়াদের হৃদয় কেঁপে ওঠে সেই হিটম্যান। সেই হিটম্যান, যিনি দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরও আক্রমণ করতে জানেন, জানেন কিভাবে নিজের শেষ বিন্দু পর্যন্ত একটা ছক্কার জন্য ওই সবুজ মাঠে উজার হতে হয়।
যতক্ষণ রোহিত শর্মা খেলেন, একগাদা মুগ্ধ নয়ন তাকিয়ে শুধু দেখে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও তাঁর ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল হাজারো চোখ, তবে সেই চোখে ছিল হাজারো শঙ্কা, হাজারো উত্তেজনা আর সংশয়।

বোর্ডে ৪০০-র বেশি রান তাড়া করার চাপ, আর দূরদৃষ্টিতে বিশ্বকাপের দল থেকে জায়গা হারানোর আভাস – এত সব লড়াই যখন চোখের সামনে তখন সেই আহত আঘ জেগে উঠলেন। গুয়াহাটির বর্ষাপাড়ায় এদিন শুধু বর্ষণ নয়, ঝড় হয়ে হুঙ্কার ছাড়ল ভারতীয় ক্রিকেটের প্রিয় সেই বাঘ। বহু ব্যবহারে ক্লিশে হয়ে যাওয়া সেই সংলাপ আবারও বলে উঠল তাঁর ব্যাট – টাইগার জিন্দা হ্যায়!
হ্যাঁ, রোহিত শর্মা ইজ ব্যাক। নিজের শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তিনি আবারও জেগে উঠেছেন হারানো সেই প্রতাপ নিয়ে। ৩২ বলে হাফ সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের ৩৫ তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে পৌঁছালেন ৭২ বল খেলে। ১০১ রানে থামল ইনিংস। শুভমান গিলের সাথে রেকর্ড গড়া এক সেঞ্চুরি করলেন। ১০ টি চার আর ছয়টি ছক্কায় সাজানো ক্লাসিক এক রোহিত শর্মা স্পেশাল নক!
ব্যস, লেখা হয়ে গেল এক নতুন ইতিহাস! সত্যিকারের বাঘ যিনি, তিনি এভাবেই ফিরে আসতে পারেন বারবার।











