ভারতের ২১২ রানের বিশাল টার্গেট মাথায় নিয়ে নামার পর পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত আসা যাওয়া শুরু হলো। সাত ওভারে ৪২ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ায় মনে হচ্ছিল, শ্রীলংকার মতো আরেকটা লো স্কোরিং ইনিংসই বুঝি দেখতে যাচ্ছি আমরা। কিন্তু সেই জায়গায় ওয়ান ম্যান আর্মি হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন হাসান নেওয়াজ।
শুরুটা ছিল ধীরেসুস্থে, প্রথম ৮ বলে মাত্র ৪ রান। তারপর বদলে গেল সবকিছু। রবি বিষ্ণোইকে ছক্কায় উড়িয়ে ২৮ বলে পঞ্চাশ ছুঁলেন, ওই ওভারে উঠল ২০ রান। ভারতের কোনো বোলারকেই পাত্তা দিলেন না, একের পর এক বাউন্ডারি আর ছক্কায় ম্যাচটাকে টেনে নিয়ে গেলেন শেষ ওভার পর্যন্ত। অথচ অপর প্রান্তে যোগ্য সঙ্গী পেলেন না কাউকেই। স্যাম আইয়ুব ২৯ করে ফিরলেন, সামাদ ফিরলেন ৯ রানে। সঙ্গী পেলে ম্যাচটা পকেটে পুরেই হয়তো স্বর্ণ নিয়ে ফিরতেন নেওয়াজ, কিন্তু বিধিবাম।!
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৬ বলে ৩৩ রান। প্রথম বলে চার, তারপর দুটো ডট বল, আর যখন ভারতীয় গ্যালারিতে উল্লাস শুরু হয়ে গেছে, ঠিক তখনই আবার ছক্কা। পরের বলে দুই রান নিয়ে ৯৬, সেঞ্চুরি তখন মাত্র ৪ রান দূরে। কিন্তু শেষ বলে বল উঠল হাওয়ায়, ক্যাচ হলো সাঞ্জুর গ্লাভসে, আর ৫১ বলে ৯৬ রানের ইনিংসটা কেবল ট্র্যাজেডি হয়েই থেকে গেল। ৭টি ছক্কা আর ৫টি চারে সাজানো ইনিংস, স্ট্রাইক রেট ১৮৮। তবু সেঞ্চুরিটা পেলেন না।

এশিয়ান গেমসে যখন বেশির ভাগ দেশ নিজেদের মূল দল বা তার কাছাকাছি দল পাঠিয়েছে, পাকিস্তান পাঠিয়েছিল তরুণদের নিয়ে গড়া একটা দল। নেওয়াজ সেই তরুণ তুর্কিদেরই একজন, যাঁর অভিষেক হয়েছিল ক্রাইস্টচার্চে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। তাঁর এই লড়াইয়ের জন্যই ফাইনাল একপেশে হয়ে যায়নি, শেষ বল পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল। সিলভার হাতে ফিরলেও পাকিস্তান সেটা অর্জন করে নিয়েছে।
স্বর্ণ ঝুলবে ভারতের গলায়, কিন্তু মানুষ মনে রাখবে অন্য একটা ছবি। চারপাশে সব ভেঙে পড়ছে, আর এক তরুণ একা দাঁড়িয়ে ব্যাট তুলে মারছে। কিছু হার এমন হয়, যা জয়ের চেয়েও বেশিদিন মনে থাকে।












