জেইডেন সিলসের বলটা ভেতরে ঢুকে মিডল স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলল, আর অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন কোহলি, শুধু তিনি নন, গ্যালারি ভরা দর্শক, ভারতের ডাগআউট, এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলোয়াড়েরাও যেন প্রথম কয়েক মুহূর্ত বিশ্বাস করতে পারেননি। ইনিংসের প্রথম বলেই ফ্লিক করতে এক পা এগিয়েছিলেন কোহলি, কিন্তু ১৩৬ কিলোমিটার গতির বলটা ব্যাট আর প্যাডের ফাঁক গলে যা হওয়ার নয়, তাই করে বসল। অবিশ্বাস্য ভাবে প্রথম বলেই বোল্ড হলেন বিরাট কোহলি।
অথচ এমন কিছু কল্পনা করাটাই কঠিন ছিল, ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষবার শূন্য রানে ফিরেছিলেন কোহলি। তারপর থেকে যা খেলেছেন, তাকে অতিমানবীয় বললেই কেবল ঠিকঠাক বোঝানো যায়। সেই শূন্যের পর ১২ ইনিংসে ৪টা সেঞ্চুরি আর ৫টা হাফ সেঞ্চুরি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে করলেন ১৩৫ আর ১০২, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১২৪, আর সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই বিপক্ষে ৮৮ বলে অপরাজিত ১৩৯, যেখানে ৯টা ছক্কা আর ১০টা চার দিয়ে যেন আকাশটাকেই নিজের করে নিয়েছিলেন। হাফ সেঞ্চুরিগুলোও সাধারণ ছিল না, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৩ রানে থেমে যাওয়া ইনিংসটাই বলে দেয়, সেগুলোও প্রায় সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিল। একটা শূন্য যেন তাঁকে ছুড়ে দিয়েছিল আকাশের দিকে, আর তিনি সেখান থেকে নামতেই চাননি।

আর এবার এল আরেকটা শূন্য, সেই আগেরটার মতোই আচমকা, নির্মম আর নিঃশব্দে।
প্রশ্নটা তাই আপনাআপনিই চলে আসে, গত শূন্যের পর যে মানুষটা একের পর এক ইনিংসে নিজেকেই ছাড়িয়ে গেছেন, এই শূন্যের পর তিনি কোথায় গিয়ে থামবেন? ক্যারিয়ারে ১৮টা ডাক আছে তাঁর, ৫৫টা সেঞ্চুরির পাশে সেটা প্রায় চোখেই পড়ে না। কিন্তু প্রতিবার ডাকের পর তিনি যেভাবে ফিরে আসেন, সেটাই হয়তো তাঁকে বাকিদের থেকে আলাদা করে।
৩১৬ ম্যাচে ১৫ হাজারের বেশি রান, গড় ৫৯, তবু এই মানুষটার ক্ষুধা যেন মেটেই না। তাহলে কি তাঁর কোনো সীমানাই নেই? নাকি শূন্যই তাঁর কাছে নতুন করে শুরুর নাম, আর সেই শূন্যের ভেতর থেকেই জন্ম নেয় আরেকটা মহাকাব্য? উত্তরটা দেবে সময়, আর কোহলির ব্যাট!












