ধ্বংসস্তূপে আলো জ্বালিয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ হিটম্যান!

সেঞ্চুরিটা হয়তো মিস হলো, কিন্তু রোহিত শর্মা ত আজ নিজের জন্যে খেলেননি, খেলেছিলেন খাদের কিনারা থেকে দল বাঁচানোর জন্যে আর সেই কাজ টি তিনি সেরাদের মতো করেই ফিরে গিয়েছেন।

প্রথম কয়েক ওভারেই মনে হচ্ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ আজ প্রতিশোধের নেশায় নেমেছে। টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি আর ডাবল সেঞ্চুরি করা গিলকে ছয় বলের মধ্যে ফিরিয়ে দিল, তার পরের বলেই জেইডেন সিলসের ঘূর্ণিতে গোল্ডেন ডাক নিয়ে ফিরলেন কোহলি, স্কোরবোর্ডে ৪ রানে ২ উইকেট। ঠিক এই জায়গায় অন্য প্রান্তে হাল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেই অভিজ্ঞ মাঝি, রোহিত শর্মা।

শুরুটা ছিল ঠান্ডা মাথার, সিলস আর ফোর্ডের সুইং আর বাউন্সের সামনে তাড়াহুড়ো করলেন না, অনেক বল ছেড়ে দিলেন, একটা এলবিডব্লিউর ফাঁদ থেকে রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেন। প্রথম ৪১ বলে তাঁর রান মাত্র ২১, স্ট্রাইক রেট ৫০ ছুঁইছুঁই। পাওয়ারপ্লেতে ভারতের রান ২৮, যা এই দশকে দলটির সবচেয়ে কম রানের তালিকায়। তবু রোহিত নিজের জায়গা থেকে নড়লেন না, কারণ তিনি জানতেন, এই সময়টা টিকে থাকার।

তারপর বুড়ো ঘোড়া আস্তে আস্তে গতি তুলতে শুরু করল। পরের ২৬ বলে আরও ২৩ রান যোগ করে ৪৪ থেকে ৬৫ ছুঁয়ে ফেললেন, ১১ থেকে ২০ ওভারে ভারত তুলল বিনা উইকেটে ৭৪। যে দল শুরুতে মেইডেন আদায় করছিল, সেই দলের বোলারদের ওপর দিয়েই রোহিত ঝড় তুললেন, কেউ রেহাই পেলেন না। ১০ হাজার ওয়ানডে রান ওপেনার হিসেবে পূর্ণ করলেন মাত্র ২০২ ইনিংসে, যা এই ফরম্যাটে সবচেয়ে দ্রুত।

কিছু দিন আসে, যেদিন ব্যাটে বলে মেলে না। কভার ড্রাইভ করতে গেলে ঠিকমতো লাগে না, প্রিয় পুল শটেও টাইমিং গোলমাল হয়ে যায়। যেকোনো ব্যাটারের জন্য সেই দিনটা কঠিন। কিন্তু রোহিত সেদিনও উইকেট বিলিয়ে আসেননি। এটাই গুড প্লেয়ার  আর গ্রেট প্লেয়ারের পার্থক্য। দলের জন্য কীভাবে খেলতে হয়, কীভাবে একার কাঁধে পুরো চাপটা তুলে নিতে হয়, রোহিত আরেকবার সেটাই দেখিয়ে দিলেন।

সেঞ্চুরির আট রান আগে কিমো পলের বলে পুল করতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়লেন ৮৫ বলে ৯২ রানে, ১০টা চার আর ৩টা ছক্কায়। যখন ফিরলেন, ম্যাচটা অনেকটাই ভারতের দিকে চলে গেছে। এখান থেকে লড়াই করতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে থাকবে বিশাল একটা টার্গেট। ঋতুরাজের সঙ্গে তাঁর ১০০ ছাড়ানো জুটি ছিল ওয়ানডেতে তাঁর ৭৫তম শতরানের জুটি, যা সংখ্যায় শচিন আর কোহলির পরেই।

সেঞ্চুরিটা হয়তো মিস হলো, কিন্তু রোহিত শর্মা ত আজ নিজের জন্যে খেলেননি, খেলেছিলেন খাদের কিনারা থেকে দল বাঁচানোর জন্যে আর সেই কাজ টি তিনি সেরাদের মতো করেই ফিরে গিয়েছেন।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link