ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটিতে ভারতের বাকি দশজন ফুটবলারের সঙ্গে তাঁর তফাতটা চোখে পড়ছিল প্রথম থেকেই। কেবল দৈহিক গঠন কিংবা শক্তি নয় – খেলার ক্ষিপ্রতা, বল পজেশন এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স চিরে বেরিয়ে যাওয়ার গতিতে তিনি ছিলেন স্পষ্টত আলাদা। তিনি রায়ান উইলিয়ামস। ভারতীয় ফুটবলের নতুন পোস্টার বয়।
অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা হলেও ধমনীতে বইছে ভারতীয় রক্ত। মায়ের সূত্রে ভারতের প্রতি টান অনুভব করা এই ফরোয়ার্ডের জন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সহজ ছিল না।
ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ না থাকায়, জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি নিজের অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট ত্যাগ করার কঠিন সিদ্ধান্ত নেন। ফিফা এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি ভারতের নাগরিক হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পান।

ইংল্যান্ডের ফুলহ্যাম ও পোর্টসমাউথের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা এই ৩২ বছর বয়সী উইঙ্গার বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে আইএসএল মাতানোর পর আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের জার্সিতে অভিষেক করেন। সেখানেও গড়ে তোলেন নতুন রেকর্ড। মাঠে নেমে মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই গোল করে ভারতের ফুটবল ইতিহাসে অভিষেকে দ্রুততম গোলের রেকর্ড নিজের নামে করে নেন উইলিয়ামস।
সম্প্রতি ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা দল পানামার বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা ম্যাচটিতেও ভারতের হয়ে সমতাসূচক মূল গোলটি করেন তিনি। ম্যাচ শেষে তিনি ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন যে, ভারতে তাকে যেভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে তাতে তিনি আপ্লুত এবং ভারতের জার্সিতে গোল করাটা তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা অভিজ্ঞতা। প্রতিপক্ষের কোচ থমাস ক্রিশ্চিয়ানসেনও ম্যাচ শেষে উইলিয়ামসের ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ভারতীয় আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন।
ব্রাজিল বা উরুগুয়ের মতো বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তিদের বিপক্ষে মাঠে নামার কঠিন অভিজ্ঞতাতেও রায়ান উইলিয়ামসের মতো ইউরোপীয় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ফুটবলারের উপস্থিতি দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। দৈহিক শক্তিতে প্রতিপক্ষের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া থেকে শুরু করে গতি দিয়ে কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করা – সবক্ষেত্রেই ভারতীয় ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রায়ান উইলিয়ামস।












