​ফরোয়ার্ডে প্রেম, ডিফেন্সে সংসার

জন্মেছিলেন নির্ঘাত নয় নম্বরে স্ট্রাইকার হওয়ার ধ্রুপদী স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু ফুটবলীয় পরিবারের চাপে পিঠে চেপে বসেছে ডিফেন্ডারের জার্সি!

জন্মেছিলেন নির্ঘাত নয় নম্বরে স্ট্রাইকার হওয়ার ধ্রুপদী স্বপ্ন নিয়ে, কিন্তু ফুটবলীয় পরিবারের চাপে পিঠে চেপে বসেছে ডিফেন্ডারের জার্সি! গল্পের শুরুটা যেমনই হোক, জোয়াও ক্যান্সেলো যেন সেই অবাধ্য প্রতিভা, যাকে ডিফেন্সের চেনা ছকে বেঁধে রাখা অসম্ভব।

​কোচ বোর্ডে যাই লিখুন না কেন, মাঠে নামলেই তিনি যেন একাই রূপ বদলান। কখনো নিখাদ রাইট ব্যাক, কখনো লেফট ব্যাক, আবার পর মুহূর্তেই উইং ধরে দৌড়ানো রাইট কিংবা লেফট উইংব্যাক! আর প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছাকাছি এলে সেই ‘স্ট্রাইকারস ইনস্টিঙ্কট’ জেগে ওঠে। হয়ে ওঠেন দলের কোল্ড ব্লডেড গোলস্কোরার।

​এক জার্সিতে এতগুলো রোল প্লে করা এবং ডিফেন্ডার হয়েও প্রতিপক্ষের বক্সে নিয়মিত আতঙ্ক ছড়ানোর পেছনে কান্সেলোর ট্যাকটিক্যাল রহস্যগুলো ঠিক কেমন? চলুন ব্যবচ্ছেদ করা যাক।

ঐতিহ্যগতভাবে উইংব্যাকরা মাঠের টাচলাইন ধরে ওপর নিচ দৌড়ান এবং বক্সে ক্রস বাড়ান। কিন্তু ক্যান্সেলোর খেলার ধরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি মূলত ইনভার্টেড ফুলব্যাক হিসেবে খেলেন। আক্রমণ তৈরির সময় উইং ছেড়ে হঠাৎ মাঠের মাঝখানে বা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে চলে আসেন।

​এর ফলে মাঝমাঠে দলের অতিরিক্ত একজন খেলোয়াড়ের সুবিধা তৈরি হয়। তিনি যখন সেন্ট্রাল হাফ-স্পেসে অবস্থান নেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা দ্বিধায় পড়ে যান কাকে মার্ক করবেন। এই পজিশনিংয়ের কারণেই ক্যান্সেলো বক্সের ঠিক বাইরে গোল করার মতো ফাঁকা জায়গা ও সময় পেয়ে যান।

​ক্যান্সেলোর অন্যতম বড় শক্তি হলো উইং থেকে বল নিয়ে ভেতরে ড্রিবল করে ঢুকে পড়া। তিনি যখন বাঁ প্রান্ত থেকে ড্রিবল করেন, তখন তার শক্তিশালী ডান পা দিয়ে পোস্টের ফার-কর্নারে শট নেওয়ার নিখুঁত কোণ তৈরি হয়। নরওয়ের বিপক্ষে তাঁর সমতাসূচক গোলটি কিংবা ক্লাব ফুটবলে তার চমৎকার গোলগুলো এই ইনসাইড ড্রিবলিং ও হাফ-স্পেস আক্রমণেরই ফসল।

​হ্যান্সি ফ্লিক থেকে শুরু করে জর্জ জেসুস – সব কোচের অধীনেই ক্যান্সেলো ‘পজিশনাল ফ্লুয়িডিটি’ বা পজিশন বদলের চরম স্বাধীনতা পান। উইঙ্গার যখন উইং ধরে বাইরে থাকেন, ক্যান্সেলো আন্ডারল্যাপ করে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন। আবার উইঙ্গার ভেতরে ঢুকলে তিনি ওভারল্যাপ করেন। এই ক্রমাগত পজিশন অদলবদলের কারণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা তাদের মার্কিং হারিয়ে ফেলে এবং ক্যান্সেলো ফরোয়ার্ডের মতো অরক্ষিত অবস্থায় শট নেওয়ার সুযোগ পান।

​জোয়াও ক্যান্সেলো প্রমাণ করেছেন যে, আধুনিক ফুটবলে পজিশনিং কেবল কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ। ফুটবল ব্রেইন, টেকনিক্যাল এবিলিটি আর ভেতরে চেপে রাখা সেই ‘স্ট্রাইকিং ইনস্টিঙ্কট’ থাকলে একজন ডিফেন্ডার হয়েও ম্যাচের মূল গোলদাতা ও গেম-চেঞ্জার হয়ে ওঠা সম্ভব। ডিফেন্স সামলে আক্রমণের এই সসি মাস্টারক্লাস দিয়ে ক্যান্সেলো প্রতিনিয়ত আধুনিক ফুটবলের সংজ্ঞা নতুন করে লিখছেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link