ব্যাটিং বিপর্যয়ের বৃত্তে বন্দি বাংলাদেশ!

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুবাইয়ের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম দিনে বাংলাদেশের  আবারও সেই একই চিত্রই দেখা গেলো। সৌম্য সরকার আর সাদমান ইসলাম গড়লেন ১০৮ রানের ওপেনিং জুটি, কিন্তু ৫ উইকেটে ১৬৪ থেকে দল গুটিয়ে গেল ২৩৪ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকায়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ব্যাটিং যেন সেখানেই আটকে আছে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুবাইয়ের প্রস্তুতি ম্যাচে প্রথম দিনে বাংলাদেশের  আবারও সেই একই চিত্রই দেখা গেলো। সৌম্য সরকার আর সাদমান ইসলাম গড়লেন ১০৮ রানের ওপেনিং জুটি, কিন্তু ৫ উইকেটে ১৬৪ থেকে দল গুটিয়ে গেল ২৩৪ রানে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকায়ে দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ব্যাটিং যেন সেখানেই আটকে আছে।

ম্যাকায়ে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৬৪ আর ৯৫ রানে, স্টার্ক একাই নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের রান ১৫৯, আর অস্ট্রেলিয়া এক ইনিংসেই করেছিল ২১০। অথচ শরিফুল ইসলাম ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে নিজের কাজটা ঠিকই করেছিলেন। সমস্যা ব্যাটিংয়ে, আর সেটা দুই জায়গাতেই, ম্যাকায়ে প্রথম ইনিংসে ওপেনাররা ব্যর্থ হতেই ১২ রানে পাঁচ উইকেট চলে গিয়েছিল। আবার দুবাইয়ে ওপেনাররা ভালো করার পরও মিডোল অর্ডার সেটা ধরে রাখতে পারেনি। উপরে রান এলে মাঝে আসে না, উপরে না এলে মাঝের কেউ লড়লেও দলের রান হয় না।

বাংলাদেশ দলের জন্যে এই মুহুর্তে মুশফিক আর লিটন দাসের ফর্ম সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। ম্যাকায়ে মুশফিকের রান ছিল ৫ ও অপরাজিত ২৯, আর দুবাইয়ের প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি করেছেন মাত্র ৪। লিটনের অবস্থা আরও খারাপ, অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনি বারবার শূন্য রানে ফিরেছেন, আর এশিয়ান গেমসে অধিনায়ক হিসেবে দুই ম্যাচে করেছেন মাত্র ২ রান। সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২, ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শূন্য। বাংলাদেশ সেখানে পদক ছাড়াই চতুর্থ হয়েছে। অথচ মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিক করেছিলেন ১৩৭ আর লিটন ১২৬। সামর্থ্যের অভাব নেই, দরকার শুধু ফর্মে ফেরা।

টেস্টে ব্যাটিংই দলের মূল শক্তি। ব্যাটাররা ভালো লিড বা টার্গেট দিলেই বোলাররা লড়াই করার সুযোগ পান, নইলে তাঁদের হাতে কিছুই থাকে না। ডারউইনে বোলাররা অস্ট্রেলিয়াকে দুই ইনিংসেই ৩০০ রানের নিচে আটকে দিয়েছিলেন, কিন্তু ম্যাকায়ে তাঁদের সেই সুযোগটাই দেওয়া হয়নি।

একটা দলের জয় আসে সবার মিলিত পারফরম্যান্সে। ওপেনার আর টপ অর্ডার ভিত গড়ে দেন, মিডল অর্ডার সেটাকে বড় স্কোরে নিয়ে যায়, আর বোলাররা সেই স্কোরের ওপর দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে লড়েন। বাংলাদেশ জেতে সেই ম্যাচগুলোতেই, যেখানে ব্যাটার আর বোলাররা একই সাথে পারফর্ম করে। আফগানিস্তান টেস্ট আর তার পরের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মতো জরুরি সিরিজগুলোতে ব্যাটিং যদি এভাবেই ভেঙে পড়তে থাকে, তাহলে হতাশা ছাড়া আর কিছুই অপেক্ষা করছে না।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link