উয়েফা নেশনস লীগে এক নাটকীয় ও জমজমাট লড়াইয়ে সার্বিয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে নেদারল্যান্ডস। ম্যাচের প্রথমার্ধে ডাচরা এগিয়ে গেলেও দ্রুতই ম্যাচে সমতা ফেরায় সার্বিয়া। তবে শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে মাঠে নামা জোশুয়া জিরকজির দারুণ এক ফিনিশিংয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই শুরু হয় গোলের লড়াই। ৩১তম মিনিটে ডি বক্সের ঠিক বাইরে একটি বিপদজনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় নেদারল্যান্ডস। সেখান থেকে বাঁ-পায়ের দৃষ্টিনন্দন শটে বল জালে জড়িয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি রিভিউয়ের পর গোলটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ডাচদের পক্ষে আসে।
তবে এই আনন্দের রেশ বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। ঠিক চার মিনিটের মাথায় ৩৫তম মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে সমতায় ফেরে সার্বিয়া। মাঝমাঠ থেকে বাঁ দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে সুন্দর ক্রস বাড়ান আলেক্সা তেরজিক। ডি-বক্সের একদম কাছ থেকে জোরালো হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান মিহাজলো সভেটকোভিচ।

১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হলেও ম্যাচের ৭২তম মিনিটে আবার লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। সার্বিয়ার বল ক্লিয়ারেন্সের ব্যর্থতায় টিজ্জানি রেইজন্ডার্স চমৎকার পাস বাড়ান এবং খুব কাছ থেকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে নীচের ডান প্রান্ত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন সাবস্টিটিউট ফরোয়ার্ড জোশুয়া জিরকজি।
ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে পুরো ম্যাচেই মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং অ্যাকুরেসি বজায় রেখে খেলেছে ডাচরা। বিশেষ করে টিজ্জানি রেইজন্ডার্স এবং ডেঞ্জেল ডামফ্রিসের রাইট-উইং ওভারল্যাপ সার্বিয়ার রক্ষণে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে কম বল পজেশন থাকলেও সার্বিয়ার মূল কৌশল ছিল দ্রুত কাউন্টার-অ্যাটাকে যাওয়া।
তাদের সমতাসূচক গোলটি এই ট্যাকটিক্সেরই এক সফল বাস্তবায়ন। তবে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন জাভি হার্নান্দেজের সুচিন্তিত সাবস্টিটিউশন। দ্বিতীয়ার্ধে জোশুয়া জিরকজিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবে দুর্দান্ত কাজ করে এবং তাঁর ফিনিশিংয়ের শক্তিতেই মূল্যবান তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে নেদারল্যান্ডস।












