লিজেন্ডদের টুর্নামেন্ট ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে রোববার শারজায় মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা চ্যাম্পিয়ন্স আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়ন্স। ম্যাচটা দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ৯৭ রানে, কিন্তু আলোচনা হচ্ছে অন্য কারণে। একসময় নিজেদের ব্যাটিং জাদুতে বিশ্বকে মুগ্ধ করে রাখতেন যে দুজন, সেই এবি ডি ভিলিয়ার্স আর ক্রিস গেইল এবার ছিলেন দুই দলে, আর দুজনেই ব্যাট হাতে মনে করিয়ে দিয়েছেন কেন তাঁদের নিয়ে এত কথা হতো।
আগে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০ ওভারে ৫ উইকেটে তোলে ২৪২ রান। ইনিংসের সবচেয়ে বড় অবদান ওপেনার রিচার্ড লেভির, তিনি ৩৯ বলে করেন ৮৭ রান, মেরেছেন পাঁচটা চার আর আটটা ছক্কা। প্রথম থেকেই ম্যাচের গতি ঠিক হয়ে যায় তাঁর ব্যাটে। তবে দর্শকেরা অবশ্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন ডি ভিলিয়ার্স নামার জন্য, আর তিনি নিরাশ করেননি। ৩৯ বলে ৭০ রানের ইনিংসে ছিল চারটা চার আর পাঁচটা ছক্কা।
রানের চেয়েও চোখে পড়েছে শটগুলো। এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে সেই চেনা লফটেড শট, স্লগ সুইপে ছক্কা, আর স্কুপ খেলার চেষ্টাও, যেটা তাঁর খেলার একটা বড় পরিচয় ছিল। বয়স বাড়লেও মাঠের চারপাশে বল পাঠানোর সেই ক্ষমতাটা এখনো আগের মতোই আছে। গত আসরেও এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৪৩১ রান ছিল তাঁরই, তাই মিস্টার থ্রি সিক্সটি নামটা যে এখনো মানায়, সেটা নতুন করে বলার কিছু নেই।

২৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামার সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভরসা ছিল একটাই, গেইল যদি কিছুক্ষণ টিকে যান তাহলে ম্যাচটা জমে যেতে পারে। গেইল সেই চেষ্টা করেছেন পুরোপুরি। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে, কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়া বল পাঠিয়েছেন গ্যালারিতে, সোজা ব্যাটে আর লেগ সাইডে। তাঁর ৩১ বলের ইনিংসে ছিল চারটা চার আর পাঁচটা ছক্কা, রান ৬০। কিছুক্ষণের জন্য সত্যিই মনে হচ্ছিল এত বড় লক্ষ্যও হয়তো ধরা যাবে। কিন্তু অন্যপাশ থেকে সেরকম সাহায্য আসেনি। কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ১৩ বলে করেছেন ২৯ আর রায়াদ এমরিট ১২ বলে ১৪, বাকিরা তেমন কিছু করতে পারেননি। গেইল আউট হওয়ার পর ইনিংসটা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়, ১৮.২ ওভারে ১৪৫ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ে বোলারদের ভূমিকাও কম ছিল না। ইমরান তাহির আর অ্যারন ফাঙ্গিসো তিনটা করে উইকেট নিয়েছেন, রবার্ট ফ্রাইলিংক নিয়েছেন দুটো, আর একটা করে নিয়েছেন সারিল এরউই ও মারচেন্ট ডি লেঙ্গে। তাহিরের বল এখনো যেভাবে ঘুরছে, তাতে বোঝা যায় এই সাবেক তারকাদের মান এখনো কতটা ভালো।
তবে ম্যাচ শেষে যে ছবিটা মনে থেকে যাবে, সেটা ফলাফলের নয়। একজন ডি ভিলিয়ার্স, যিনি ক্রিজ ছেড়ে সরে গিয়ে এমন শট খেলছেন যা অন্য কেউ ভাবতেও পারে না, আরেকজন গেইল, যিনি বল আকাশে পাঠিয়ে একদম শান্ত দাঁড়িয়ে আছেন। একসময় যাদের ম্যাচ থাকলে যাদের খেলা দেখার জন্যে পুরো বিশ্ব অপেক্ষা করতো,লিজেন্ড লীগে আবারও তারা ফিরেছেন সেই পুরোনো রুপে, যেন সময় টা আরেকবার পিছনে নিয়ে দর্শকদের টাইম ট্রাভেল করাতেই।












