যখনই স্পেন দল বিপদে পড়ে কিংবা ডেডলক ভাঙতে ব্যর্থ হয়, তখনই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ট্রাম্পকার্ড হয়ে ওঠেন মিকেল মেরিনো। ডাগআউট থেকে ম্যাচের মাঝে মাঠে নামা আর প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানো – এ যেন এক অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। উয়েফা নেশনস লিগে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়া ম্যাচটিতেও বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়েছেন তিনি।
স্পেনের জাতীয় দলের হয়ে ডাগআউট থেকে উঠে এসে জয় ছিনিয়ে আনার ইতিহাস মেরিনোর জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও স্পেনের শিরোপা জয়ের যাত্রায় তাঁর ভূমিকা ছিল ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকার মতো।
বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ সিক্সটিনে পর্তুগালের বিপক্ষে গোলের মুখ দেখতে না পাওয়া ম্যাচে ৮৫তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন মেরিনো। এরপর ইনজুরি টাইমের ৯১তম মিনিটে ফেরান তোরেসের পাস থেকে বল পেয়ে দৃষ্টিনন্দন গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এক মহানাটকীয় জয় এনে দেন।

এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যখন ১-১ সমতায় ম্যাচ আটকে ছিল, তখন ৮৬তম মিনিটে আবারো ‘সুপার সাব’ হিসেবে তাকে মাঠে নামানো হয়। মাত্র ১১৭ সেকেন্ডের মাথায়, ৮৮তম মিনিটে গোলরক্ষকের ফিরতি বল থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বের দুটি ভিন্ন ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে জয়সূচক গোল করার অনন্য নজির গড়েন মেরিনো।
আজ নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল স্পেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্বিতীয় অর্ধে মেরিনোকে মাঠে নামান কোচ। মাঠে নেমেই ৬১তম মিনিটে দানি ওলমোর পাস থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। এরপর ৮৮তম মিনিটে মার্তিন জুবিমেন্দির চতুর পাস ধরে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এই তারকা মিডফিল্ডার।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে স্পেনের জার্সিতে বদলি হিসেবে নেমে মোট সাতটি গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করলেন মিকেল মেরিনো। স্প্যানিশ ফুটবলে এক জাদুকরী বিকল্প হয়ে উঠেছেন তিনি। বেঞ্চ থেকে নেমে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ কীভাবে পুরোপুরি বদলে দেওয়া যায়, মেরিনোর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তারই এক বাস্তব উদাহরণ।












