মেসির ছায়ায় ঢাকা পড়ল ওতামেন্দির বিদায়

নীল-সাদা জার্সি গায়ে নিজের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের অন্তিম অধ্যায়টি লিখে ফেললেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দি।

বুয়েন্স আয়ার্সে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে সবার চোখ ছিল কেবল একজনের দিকেই। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ বলে কথা। কিন্তু সেই একই রাতে, নীল-সাদা জার্সি গায়ে নিজের দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ারের অন্তিম অধ্যায়টি লিখে ফেললেন আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ নিকোলাস ওতামেন্দি।

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ওতামেন্দির অবদান ছিল রূপকথার মতো। তবে সতীর্থের মহাতারকা কারণে তাঁর এই বিদায়ী পারফরম্যান্স কিছুটা হলেও আড়ালে পড়ে যায়।

​ম্যাচের ৪৮তম মিনিটে রচিত হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত। কর্নার থেকে থেকে বাড়ানো মেসির নিখুঁত ক্রসে বল জালে পাঠান ওতামেন্দি। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জাতীয় দলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করা দুই সেনানির সমন্বয়েই আসে ম্যাচের উদ্বোধনী গোল।

ম্যাচ শেষে নিজের এই পারফরম্যান্স ও বিদায় নিয়ে ওতামেন্দি বলেন, ‘স্বপ্নাতীত এক সমাপ্তি! বিশ্বকাপের পরই ভেবেছিলাম জাতীয় দলে আমার পথচলা শেষ। এই ম্যাচটি যেন বাড়তি এক উপহার ছিল। জীবনের শেষ গোলটি মেসির পাস থেকে পাওয়া – এমন মুহূর্ত আমি সারাজীবন হৃদয়ে আগলে রাখব।’

মেসি স্বাভাবিকভাবেই এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট নিজের বিদায়ী ম্যাচে শিরোনাম কেড়ে নিলেও, ওতামেন্দির জন্য ম্যাচটি ছিল আত্মত্যাগের স্বীকৃতি। ২০০৯ সালে অভিষেকের পর থেকে কঠিন সময়, বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের বেদনা থেকে শুরু করে ২০২১ কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার।

মেসির বিদায়ী সংবর্ধনার মাঝে ওতামেন্দির এই নীরব বিদায় যেন আড়ালে থেকে যাওয়া এক সৈনিকের গল্প, যিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দেশের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে গেছেন। আলোর ঝলকানি কম থাকলেও, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিকোলাস ওতামেন্দির নাম এক অপরাজেয় যোদ্ধার প্রতীক হিসেবেই খোদাই করা থাকবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link