ক্যানসারজয়ী ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তনে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিসংখ্যান!

৮৮টা টেস্ট মিস করার পর ফেরা, কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার ১০ দিনের মাথায় নেটে ব্যাট হাতে নেওয়া একজন মানুষের জন্য ৩৩ বল টিকে থাকা কম কিছু নয়। শূন্যটা স্কোরকার্ডে থেকে যাবে ঠিকই, কিন্তু এই ইনিংসের পেছনের গল্পটা তার চেয়ে অনেক বড়।

ক্যানসারকে হারিয়ে ৯ বছর ২৮৩ দিন পর টেস্ট দলে ফেরা নিক ম্যাডিনসনের প্রত্যাবর্তনটা শেষ হলো এমন এক পরিসংখ্যানে, যা কোনো ব্যাটারই নিজের নামের পাশে দেখতে চান না। ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওপেন করতে নেমে ৩৩ বল খেলেও খাতা খুলতে পারেননি। মার্কো ইয়ানসেনের একটা গুড লেংথ বল কাট করতে গিয়ে আন্ডার এজ হলো, বল গড়িয়ে লাগল স্টাম্পে।

টেস্টে ওপেনার হিসেবে সবচেয়ে বেশি বল খেলে শূন্যতে আউট হওয়ার তালিকায় ম্যাডিনসন এখন তিন নম্বরে। সবার ওপরে নিউজিল্যান্ডের ড্যারিন মুরে, ১৯৯৫ সালে ডানেডিনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেছিলেন ৩৯ বল। দুইয়ে জিম্বাবুয়ের ট্রেভর গ্রিপার, ২০০০ সালে কিংস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩৬ বল। ম্যাডিনসনের ঠিক নিচে আরেক জিম্বাবুয়ান মার্ক ডেকার, ১৯৯৪ সালে বুলাওয়েতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩০ বল, আর ইংল্যান্ডের ব্রায়ান লাকহার্স্ট, ১৯৭১ সালে সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৯ বল। অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ওপেনার এই তালিকায় নেই, ম্যাডিনসনই একমাত্র।

সব ব্যাটারের হিসেব ধরলে  ডাকের তালিকায় তিনি ১৬ নম্বরে, তবে শীর্ষ সাতের কোনো ব্যাটার এর চেয়ে বেশি বল খেলে শূন্যে আউট হননি। অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যে তাঁর ওপরে শুধু মাইক হুইটনি, ৪২ বল, কিন্তু তিনি ছিলেন লোয়ার অর্ডারের ব্যাটার।

সকালটা শুরু থেকেই কঠিন গেছে। ইয়ানসেন আর মুলডার বারবার লেগ স্টাম্পের লাইনে বল করছিলেন, গ্লান্স করতে গিয়ে ম্যাডিনসন একের পর এক বলে ব্যাট ছোঁয়াতে পারেননি। চতুর্থ ওভারে এলবিডব্লিউর বড় আবেদনে দক্ষিণ আফ্রিকা রিভিউ নেয়নি, পরে রিপ্লেতে দেখা যায় বল সোজা লেগ স্টাম্পে লাগছিল। জীবন পেয়েও সেই জীবন কাজে লাগাতে পারেননি নিক।

তবে ৮৮টা টেস্ট মিস করার পর ফেরা, কেমোথেরাপি শেষ হওয়ার ১০ দিনের মাথায় নেটে ব্যাট হাতে নেওয়া একজন মানুষের জন্য ৩৩ বল টিকে থাকা কম কিছু নয়। শূন্যটা স্কোরকার্ডে থেকে যাবে ঠিকই, কিন্তু এই ইনিংসের পেছনের গল্পটা তার চেয়ে অনেক বড়।

Share via
Copy link