ঘুম ভেঙেছে সাদমানের! মাঝেমধ্যে জেগে ওঠেন, ব্যাট হাতে জানান দেন নিজের অস্তিত্বের, তারপর আবার ডুবে যান দীর্ঘ নীরবতায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে অবশেষে সেই নীরবতা ভাঙলেন। ব্যাট থেকে এল অর্ধশতক। আট ইনিংসের খরা কাটিয়ে ফিরল হাসি, ফিরল প্রত্যাশা। একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেটে পূর্ণ করলেন দেড় হাজার রানের মাইলফলক। বর্তমানে তাঁর টেস্টে রান ১ হাজার ৫৬৫। কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল, এই জেগে ওঠা কি নতুন শুরুর সংকেত, নাকি পুরোনো গল্পের আরেকটি বিচ্ছিন্ন অধ্যায়?
আট বছর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৭৬ রানের এক ইনিংস দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু। অথচ আট বছরের পথচলায় টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি মাত্র দুটি। দুটিই আবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৭৮ রানের ইনিংস খেলার পর টানা আট ইনিংস ধরে ব্যাটে রান নেই, নেই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিরোধ। অবশেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এল আরেকটি ফিফটি। সেই সঙ্গে নামের পাশে যুক্ত হলো টেস্টে দেড় হাজার রানের মাইলফলক।
অবশ্য এই ফিফটির গল্পে ভাগ্যেরও খানিকটা হাত আছে। মাত্র পাঁচ রানে ব্যাট করার সময়ই জীবন পেয়েছিলেন তিনি। তখন ইনিংসের বয়স সবে ৬.৫ ওভার। সেই সুযোগটুকু কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে থিতু হলেন ক্রিজে। এরপর এল ইনিংসের ৩১.৩ ওভার। মোহাম্মদ সেলিমের বলে ক্রিজে দাঁড়িয়েই দুর্দান্ত টাইমিংয়ে পাঞ্চ করলেন সাদমান। ব্যাটের মাঝখানে লাগা বলটি ছুটে গেল কভারের পাশ দিয়ে, দুই ফিল্ডারের মাঝখানের সরু ফাঁক গলে সীমানার বাইরে। চার! সেই বাউন্ডারিতেই পূর্ণ হলো তাঁর নবম টেস্ট ফিফটি।

তবে ফিফটির পর ইনিংসটাকে আর বড় করতে পারলেন না সাদমান। ৩৭.৫ ওভারে মোহাম্মদ সেলিমের বলেই থামল তাঁর লড়াই। ১১১ বলে ৬৭ রান করে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরলেন তিনি। আট ইনিংসের রানখরা কাটিয়ে ফিফটির দেখা মিললেও, সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলেন না। ফলে নতুন করে প্রত্যাশা জাগিয়েও প্রশ্নের জায়গাটা থেকেই গেল।
সাদমানের গল্পটা যেন অসমাপ্ত রূপান্তরেরই গল্প। ছোট দলের বিপক্ষে তাঁর ব্যাটে দেখা যায় বড় ইনিংসের আভাস, কিন্তু শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে সেই ধার কোথায় যেন ভোঁতা হয়ে আসে।
সাদমানের পরিসংখ্যানও কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার মতো নয়। ৩১ ম্যাচের ৫৮ ইনিংসে ব্যাট করে ২৮.৪৫ গড়। বর্তমানে টেস্টে তাঁর সংগ্রহ ১ হাজার ৫৬৫ রান। দেড় হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া নিঃসন্দেহে ক্যারিয়ারের উল্লেখযোগ্য একটি অর্জন। কিন্তু একজন নিয়মিত টেস্ট ওপেনারের কাছ থেকে যে ধারাবাহিকতা প্রত্যাশিত, এই গড় সেই প্রত্যাশা পূরণ করে না কোনোভাবেই!

একটি ফিফটি সেই প্রশ্নের উত্তর নয়। যেমন একটি ব্যর্থ ইনিংসও কোনো ব্যাটারের সামর্থ্যের চূড়ান্ত রায় হতে পারে না। দেড় হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে সাদমান এখন সামনে তাকাতে পারেন নতুন প্রত্যাশা নিয়ে। কিন্তু সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে মাঝেমধ্যে জ্বলে ওঠার বদলে নিয়মিত রান করতে হবে, ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার মানসিকতা দেখাতে হবে।
ঘুম ভেঙেছে সাদমানের, কিন্তু এই জেগে ওঠা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে? দেড় হাজার রানের মাইলফলক পেরিয়ে এবার কি ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায় লিখতে পারবেন তিনি?











