ধুমধাড়াক্কা ক্রিকেট কে না ভালোবাসে! আধুনিক ক্রিকেটে চার-ছক্কার ঝড় যেন দর্শকদের বাড়তি আকর্ষণ। বাংলাদেশের সাবেক ওপেনার তামিম ইকবাল সেই পরীক্ষায় নিজের আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে জয় করেছিলেন ভক্তদের হৃদয়। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও তাঁর দখলে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে ২০১০ সালে মাত্র ৯৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ডে ভাগ বসানোর সম্ভাবনাও আজ জাগিয়ে তুলেছিলেন আরেক তামিম, তানজিদ হাসান। তবে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ২২.৫ ওভারে ইসমত আলমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ৭১ বলে ৮৩ রান করে ফিরতে হয়েছে তাকে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে শুরু থেকেই যেন বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার পণ করেছেন তানজিদ। কখনো লেগ সাইডে নিখুঁত গ্ল্যান্স, কখনো কভার দিয়ে চোখধাঁধানো ড্রাইভ, আবার কখনো উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বলকে সীমানার বাইরে পাঠানো। তাঁর ব্যাটিংয়ে দেখা যাচ্ছিল সাহস, আত্মবিশ্বাস আর রান তোলার তীব্র ক্ষুধা। ইনিংসের প্রথম ছক্কাটিও এল তার ব্যাট থেকেই। এরপর একের পর এক বাউন্ডারিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে বোলারদের একটুও ছাড় দিতে রাজি নন তিনি।
দুই তামিমের ব্যাটিংয়ে যেন মিলছে একই দর্শন। শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা, বোলারদের লাইন-লেংথ এলোমেলো করে দেওয়া আর রান তোলার গতি দিয়ে দলের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা। তবে তানজিদের এই আগ্রাসন কেবল চোখের আরাম নয়, বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ!

আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটে এখন আর শুধু উইকেটে পড়ে থাকলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ইনিংসের শুরুতে দ্রুত রান এলে পরের ব্যাটারদের জন্য তৈরি হয় বাড়তি আত্মবিশ্বাস।
তানজিদ তামিমের কাছেও প্রত্যাশাটা অনেকটা এমনই। তাকে দিয়ে বাংলাদেশ শুরুতেই পেতে চায় একটা ফ্লাইং স্টার্ট। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়েও তানজিদ ছিলেন অনন্য। করেছিলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি!
টেস্টের সাদা পোশাকে তানজিদের ব্যাটে যে আগুন দেখা গেল আজ, তা যদি ধারাবাহিকতার দেখা পায়, তাহলে বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা আগামীতেও আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতেই পারে। আজ তামিম ইকবালের রেকর্ডের কাছাকাছি যাওয়ার সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত থামতে হলো তাকে। তবে এই আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের শুরুতে নতুন এক মাত্রা যোগ করার ইঙ্গিত ঠিকই দিয়ে গেলেন তানজিদ।











