আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দুই পেসার নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ। হাসান মাহমুদকে নেওয়ার কারণ বোঝা যায়, নতুন বলে সে ভালো বোলার। কিন্তু এবাদত হোসেনকে নেওয়ার পেছনে যুক্তি কী? হয়তো লম্বা স্পেলে বোলিং করার সামর্থ্য। তাই যদি হয়, তাহলে তো এগিয়ে থাকার কথা খালেদ আহমেদের। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে বারবার পারফর্ম করে এসেছেন তিনি, সম্প্রতি কেন্টের হয়েও দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। অন্যদিকে ইনজুরি থেকে ফেরার পর এবাদতের এমন কোনো পারফরম্যান্স নেই, যেটা দেখিয়ে বলা যায়, এই কারণেই সে দলে।
শরিফুল ইসলামের বাদ পড়াটা আরও বেশি প্রশ্ন জাগায়। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সাত উইকেট নিয়েছেন যে বোলার, পরের ম্যাচেই তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হলো। পারফর্ম করেও যদি জায়গা না হয়, তাহলে খেলোয়াড়ের মনে কী বার্তা পৌঁছায়? এই মানসিক ধাক্কা শুধু একজনের নয়, পুরো দলের ক্ষতি।
শরিফুল ম্যাচই পান না, অথচ বাঁহাতি পেসার হিসেবে তাঁর ভ্যারিয়েশন দলকে আলাদা একটা মাত্রা দিতে পারত। বাউন্সার তোলার প্রশ্নেও এবাদতের চেয়ে হিট দ্য ডেক বোলার হিসেবে খালেদ কোনোভাবে পিছিয়ে নেই। এবাদতকে একাদশে রাখার পেছনে যে ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতির সুবিধার কথা বলা হয়, সেটা মাঠে কতটা কাজে লাগাতে পারবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। গতি থাকা এক জিনিস, সেটাকে উইকেটে রূপ দেওয়া আরেক জিনিস।

ভাগ্যের জোরে টস জিতে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। কিন্তু টসটা উল্টো হলে প্রথম দিনেই বোলারদের কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হতো, আর সেই পরীক্ষার জন্য দলটা ঠিকঠাক তৈরি ছিল কি না, সে প্রশ্ন তখন আরও জোরালো হয়ে উঠত।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে কেন রক্ষণাত্মক একাদশ, এই ম্যাচ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ না, খেলোয়ারদের যাচাই করার এরচেয়ে ভাল সুযোগ কি আর হবে ? প্রশ্নের উত্তরে হয়তো কন্ডিশন আর পিচের কথা শোনা যাবে। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে গেলে একটা অস্বস্তিকর জায়গায় আটকে যেতে হয়। সেরা বোলারদের যদি কঠিন কন্ডিশনে খেলিয়ে অভ্যস্ত না করা যায়, তাহলে প্রতিটা দেশে গিয়ে ভরসা করে থাকতে হবে একেক জন পেসারের ওপর। দল দাঁড়াবে না, দাঁড়াবে ব্যক্তির কাঁধে।
কঠিন কন্ডিশন মানেই পিছিয়ে পড়া নয়। চ্যালেঞ্জিং কন্ডিশনে নিজেদের মূল শক্তি পেসারদের যদি সুযোগ না দেওয়া হয়, আফগানিস্তানকে বড় দল ভেবে যদি আগেভাগেই রক্ষণাত্মক একাদশ সাজিয়ে বসা হয়, তাহলে বড় দল হওয়ার গণ্ডির ভেতরেই আটকে থাকবে বাংলাদেশ। স্বপ্ন দেখা হবে ঠিকই, কিন্তু সেই দরজা পেরোনোর সাহসটা আর কখনোই দেখানো হবে না।











