বাংলাদেশের ক্রিকেটে নাহিদ রানা যেন গতির এক দুর্বার ধূমকেতু। তাঁর আগুনঝরা বোলিংয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে যখন কম্পন জাগতেছিল, তখনই তাঁর নিজের পথজুড়ে ঘনিয়ে এসেছে অনিশ্চয়তার মেঘ! যে বাহুতে গতির বজ্রপাত, সেই বাহুর মালিকের ক্যারিয়ারেই এখন ইনজুরির অদৃশ্য শিকল। পুনর্বাসনের দীর্ঘ করিডর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েও আবারও বাধার মুখে বাংলাদেশের এই তরুণ গতিতারকা।
৯ অক্টোবরের খবরে জানা যায়, অনুশীলনে আবারও চোট পেয়েছেন নাহিদ। সাত দিনের পর্যবেক্ষণ শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থা পুনর্মূল্যায়নের কথা ছিল। এর দুই দিন পর, আজ রোববার উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্র। আগের চোট থেকে সেরে উঠলেও পুনর্বাসনের সময় পেশির সক্ষমতা প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নত হয়নি বলে জানা যায়। ফলে বছরের বাকি সময় মাঠের বাইরে থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে প্রত্যাবর্তন তো অনিশ্চিতই, নভেম্বরের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজও এখন সংশয়ের কুয়াশায় আচ্ছন্ন।

একসময় এই লাল-সবুজের বঙ্গে দুর্দান্ত গতি আর সম্ভাবনার প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছিলেন দেশের কিংবদন্তী তারকা মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু ক্যারিয়ারের শুরুর দিক থেকেই ইনজুরি যেন তাঁর নিত্যসঙ্গী। ২০০২ সালে পিঠের সমস্যার পর হাঁটুর চোট, ২০০৩ সালে আবারও গুরুতর হাঁটুর ইনজুরি, আর ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে নতুন করে হাঁটুতে আঘাত। খেলা হয়নি ঘরের মাঠে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ! একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসন বারবার থামিয়ে দিয়েছে তাঁর অগ্রযাত্রা। তবু প্রতিবারই ফিরে এসে মাশরাফি লিখেছেন প্রত্যাবর্তনের অনন্য উপাখ্যান।

তাসকিন আহমেদের গল্পেও রয়েছে একই লড়াইয়ের প্রতিধ্বনি। ২০১৮ সালে পিঠের ডিস্কের সমস্যায় ভুগেছেন তিনি। ইনজুরি আর অফফর্ম তাঁকে ছিটকে দিয়েছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ থেকেও! পরে কাঁধের চোট তাঁকে ভুগিয়েছে, যার প্রভাব পড়ে ২০২৩ বিশ্বকাপেও। দীর্ঘ বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। গতি আর আগ্রাসনে প্রতিপক্ষকে কাঁপানো এই দুই পেসারের গল্প মনে করিয়ে দেয়, ফাস্ট বোলারের জীবনে ইনজুরি কখনো কখনো হয়ে ওঠে স্বপ্নের পথে সবচেয়ে কঠিন দেয়াল।

কেন বারবার বাংলাদেশের ভাগ্যাকাশেই এমন দুর্যোগের ঘনঘটা? নাহিদকে ঘিরে সমর্থকদের অগণিত স্বপ্ন, অথচ সম্ভাবনার দিগন্তে ডানা মেলতেই চোটের নির্মম অভিঘাত! মাশরাফি, তাসকিনের পর নাহিদ, প্রজন্ম বদলায়, কিন্তু পেসারদের দুর্ভাগ্যের উপাখ্যান যেন অপরিবর্তিতই থাকে। আফসোস, প্রতিভার প্রাচুর্যেও বাংলাদেশ বারবার বঞ্চিত হয় তারুণ্যের পূর্ণ বিকাশ থেকে; গতির প্রদীপ্ত শিখা জ্বলে ওঠে, অথচ নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে নিভে যাওয়ার শঙ্কাও পিছু ছাড়ে না।










