রোববার আবুধাবিতে আফগানিস্তানের ইনিংস চলছিল, বল করছিলেন হাসান মাহমুদ, প্রথমে ইসমাত আলম আউট হলেন, তারপর কাইস আহমেদ, আর পরের বলেই ফিরে গেলেন জিয়াউর রহমান। টানা তিন বলে তিন উইকেট। আফগানরা শেষে অলআউট হলো ২৪০ রানে, কিন্তু আলোচনা ঘুরে গেল হাসানের দিকেই। টেস্টে হ্যাটট্রিক করা প্রথম বাংলাদেশি পেসার তিনি, আর টেস্ট ইতিহাসের ৫০তম হ্যাটট্রিকটাও হলো তাঁর
তবে টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এই কাজ হাসানই প্রথম করেননি, তাঁর আগে আরও দুজন করে গেছেন। প্রথমজন অলক কাপালি, ২০০৩ সালে পেশোয়ারে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে। সাব্বির আহমেদ, দানিশ কানেরিয়া আর উমর গুলকে তিনি ফিরিয়েছিলেন টানা তিন বলে। টেস্ট ইতিহাসের ৩২তম হ্যাটট্রিক ছিল সেটা, আর বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক হ্যাটট্রিক।
এরপর লম্বা অপেক্ষা দশ বছরের, ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে সোহাগ গাজী নিলেন কোরি অ্যান্ডারসন, বিজে ওয়াটলিং আর ডগ ব্রেসওয়েলকে। আর ওই ম্যাচেই সেঞ্চুরিও করে ফেললেন। একই টেস্টে শতক আর হ্যাটট্রিক, এমন কাণ্ড ক্রিকেটে খুব কমই ঘটে।

তবে টেস্টে এই কৃতিত্ব এতদিন ছিল কেবল স্পিনারদের দখলে। বছরের পর বছর দেশের মাঠে স্পিনেই ভরসা করে খেলা দলের জন্য এটা অবাক হওয়ার মতো কিছু না। কোনো পেসারের নাম বসতে লেগে গেল প্রায় ২৩ বছর। হাসান সেই শূন্যস্থান টা পূরণ করলেন, তাও দেশের বাইরে।
ওয়ানডের গল্পটা শুরু হয়েছে আরও আগে থেকেই, কারণ সেখানে হ্যাটট্রিক হয়েছে পাঁচটি।যাত্রা করেন শাহাদাত হোসেন, ২০০৬ সালের ২ আগস্ট হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০১০ সালের ৩ ডিসেম্বর মিরপুরে সেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই আবারো হ্যাটট্রিক করেন আবদুর রাজ্জাক।
২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকায় নিউজিল্যান্ডকে সেটা করে দেখান রুবেল হোসেন। তারপর এল তাইজুল ইসলামের পালা, ২০১৪ সালের পহেলা ডিসেম্বর, প্রতিপক্ষ আবারও সেই জিম্বাবুয়ে। তাইজুলের ব্যাপারটা ছিল সবচেয়ে মজার, কারণ ওটা ছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে অভিষেক। প্রথম ম্যাচেই হ্যাটট্রিক, স্বপ্নেও এর চেয়ে ভালো শুরু কেউ ভাবে না।

তালিকা শেষ হয় তাসকিন আহমেদে কে দিয়ে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ ডাম্বুলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি টানা তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের ইনিংস থামিয়ে দেন ৩১১ রানে।
পাঁচটির মধ্যে তিনটিই হয়েছে ঢাকায়, আর তিনটিতেই প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। এটাও একটা মিল, যেটা হিসাব না করলে চোখে পড়ে না। সব মিলিয়ে টেস্ট আর ওয়ানডে মিলিয়ে আটজন বাংলাদেশি বোলার এখন হ্যাটট্রিকের তালিকায় আছেন।
তবে একটা জায়গা এখনো ফাঁকা সেটা টি-টোয়েন্টি। এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের কোনো বোলার আজও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। চার ওভারের মধ্যে টানা তিন বলে তিন উইকেট পাওয়া এমনিতেই কঠিন, আর ব্যাটসম্যানরা তো প্রতি বলেই মারার চেষ্টা করেন। তবু হাসান যেভাবে টেস্টে পেসারদের জন্য দরজাটা খুলে দিলেন, তাতে মনে হয় ছোট ফরম্যাটের এই অপেক্ষাও একদিন শেষ হবে। দুই বলে দুই উইকেটে এসেছে অনেকবার, কোন একদিন তিন বলে তিনটা চলে আসবে সেই অপেক্ষায় ক্রিকেট ভক্তরা।











