টি-টোয়েন্টির রণক্ষেত্রে জসপ্রিত বুমরাহ যেন ভারতের বোলিং তূণের সেই ব্রহ্মাস্ত্র, যার অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের জন্য খুলে যায় রানের রাজপথ। ২০২৬ সালে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে বুমরাহকে একাদশে নিয়ে ১৫ ম্যাচে ১১১টি উইকেট পেয়েছে ভারত। বোলিং গড় ২২.১৮, ইকোনমি রেট ৮.৭৭। অথচ তাঁকে ছাড়া ১৩ ম্যাচে উইকেটের সংখ্যা নেমে এসেছে ৭৩ এ। বোলিং গড় বেড়ে ২৯.৩২, ইকোনমি রেট ৯.৩৭। পরিসংখ্যানের এই বৈপরীত্য ভারতের বোলিং আক্রমণে বুমরাহর গুরুত্বকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
চলমান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে বুমরাহ নেই। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে বোলিংয়ের ভার সামলানোর চ্যালেঞ্জটাই ভারতের সামনে বড় হয়ে উঠেছে। লক্ষ্ণৌতে শ্রেয়াস আইয়ারের অপরাজিত ১০২ রানে আট উইকেটের জয় পেলেও রাঁচিতে ২৫০ রানের বিশাল লক্ষ্য আটকে রাখতে পারেনি ভারত। শাই হোপের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে সিরিজে সমতা ফেরায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়েও ক্যারিবীয়দের জয় যেন ভারতের বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণহীনতার এক প্রতীকী চিত্র।

এবার ইন্দোরের পালা। ছোট বাউন্ডারি ও বড় সংগ্রহের পরিচিত এই মাঠে সামান্য লাইনচ্যুতিই বোলারদের জন্য ডেকে আনতে পারে বিপর্যয়। দুই দলের বোলিং বিভাগই রান আটকাতে হিমশিম খাওয়ায় আরেকটি রানবন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বুমরাহহীন ভারতকে তাই খুঁজতে হবে এমন এক বোলিং ছন্দ, যা প্রতিপক্ষের আগ্রাসনের সামনে হয়ে উঠবে প্রতিরোধের দেয়াল।
দুর্বলতার তালিকায় আরও আছে ফিল্ডিং। ২০২৫ সালের শুরু থেকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত। মিসফিল্ড ও রানআউটের সুযোগ নষ্টের ঘটনাও তাদের দুর্ভাবনা বাড়িয়েছে। ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে এমন ভুল যেন প্রতিপক্ষকে বিনা মূল্যে জয়ের সিঁড়ি এগিয়ে দেওয়া।
বুমরাহর অনুপস্থিতি ভারতের জন্য তাই কেবল একজন সাধারণ পেসারের ঘাটতি নয়, বরং চাপের মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক পরীক্ষাও। ইন্দোরে সিরিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে ভারতকে বোলিংয়ে শৃঙ্খলা, ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নেওয়ার সামর্থ্য দেখাতে হবে। ব্রহ্মাস্ত্র যখন তূণে নেই, তখন যুদ্ধ জিততে বাকি অস্ত্রগুলোর ধারই হয়ে ওঠে শেষ ভরসা।











