বিশ্বের যেখানে যিনিই সাফল্য পান, নভোচারী হোক বা নোবেলজয়ী, আমরা বাংলাদেশিরা আগে খুঁজে দেখি তার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো যোগ বের করা যায় কিনা। এবার সেই খোঁজের তালিকায় নতুন নাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটার আমির জাঙ্গু।
শুরুটা ৩০ সেপ্টেম্বর। গুয়াহাটিতে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৭ বলে ১১৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন জাঙ্গো, সেদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তুলেছিল ৪০৫ রান। সেঞ্চুরির পর মাঠেই সিজদা দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানালেন, ক্যামেরাও সেটা ধরে রাখল। ওই ইনিংসের পর থেকেই ফিসফাস শুরু হলো, জাঙ্গুর দাদী নাকি নোয়াখালীর মেয়ে ছিলেন। কথাটা কে প্রথম বলেছিলেন, কেউ জানে না। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র আজও কেউ দেখাতে পারেননি, সবাই শুধু ধরে নিয়েছেন।
তারপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ এল বাংলাদেশ সফরে, আর পুরোনো দাবি নতুন করে জেগে উঠল। মিরপুরে প্রথম টেস্টে শূন্য রানে আউট হলেন জাঙ্গু, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতল আট উইকেটে। কিন্তু সিলেটে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় টেস্টে দৃশ্যটা পুরো উল্টো। ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া দলকে টেনে তুললেন তিনি, ১৪৯ বলে সেঞ্চুরি করে সিলেটের মাটিতে চুমু খেলেন, দিন শেষে অপরাজিত থাকলেন ১১১ রানে। ওই সেঞ্চুরির পরই অনেকের মুখে শোনা গেল, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমির জাঙ্গু।

তাহলে সত্যিটা কী? জাঙ্গুর পুরো নাম আমির অ্যান্থনি জাঙ্গু, জন্ম ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ত্রিনিদাদের সেন্ট জেমসে। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর হয়েই বড় হয়েছেন, খেলেছেন। মজার ব্যাপার হলো, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়ানডে অভিষেকে তিনি অপরাজিত ১০৪ রানের যে ইনিংস খেলেছিলেন, সেটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বলতে এটুকুই পাওয়া যায়, প্রতিপক্ষ হিসেবে।
পদবির দিকে তাকালেও বাংলাদেশের কোনো ছাপ নেই। জাঙ্গু পদবিটা দক্ষিণ এশীয়, ভারত ও পাকিস্তানের ইতিহাসে এর দেখা মেলে, উত্তর ভারতে তো বেশ পরিচিত। ত্রিনিদাদের ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বেশির ভাগেরই শিকড় উত্তর ভারতের ভোজপুর ও অবধ অঞ্চলে, যাঁদের পূর্বপুরুষ গিয়েছিলেন চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক হয়ে। জাঙ্গুর পরিবারও সেই পথেই গেছে কিনা, নিশ্চিত করে বলার মতো তথ্য নেই। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই পদবি বা এই নামের কোনো পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখনো মেলেনি।
নিজের দেশের মানুষ সাফল্য পেলে গর্ব হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া গর্ব শেষ পর্যন্ত গুজবই থেকে যায়। বাংলাদেশের বোলারদের কাছে অবশ্য জাঙ্গুর এই মুহূর্তে একটাই পরিচয়, মাথাব্যথার আরেক নাম।











