আলেকজান্ডার ইসাকের স্বপ্নপূরণ!

তবুও কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মানসিক শক্তিতে ছেলেকে বড় করে তুলেছিলেন। সেই ছেলেই এখন বিশ্বকাপের তারকা। সুইডেনের রত্নভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান এক হীরা। 

যুদ্ধের বিষাক্ত ধোঁয়া, অনিশ্চয়তার অন্ধকার আর শরণার্থী জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে যে পরিবারের নতুন স্বপ্নের শুরু হয়েছিল সুইডেনে, সেই পরিবারের সন্তান আজ বিশ্বকাপের মঞ্চে আলো ছড়াচ্ছেন। আলেকজান্ডার ইসাকের গল্পটা তাই একটু আলাদা।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ মহারণে নামা সুইডেন অবশ্য নামেভারে কিছুটা এগিয়েই। আর এই দলের আক্রমণভাগের অগ্রণী সেনানী এই ইসাক। সুইডেনের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।

প্রতিদান দিতে ভোলেননি ইসাক। ম্যাচের ৩০ মিনিটের মাথায় খুঁজে নেন আরাধ্য সেই গোল। দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে যান ভিক্টর গিওকেরেস। চারপাশে থাকা প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে   নিখুঁত এক পাস বাড়িয়ে দেন আলেকজান্ডার ইসাকের দিকে। তিনিও ভুল করেননি, খুঁজে নেন কাঙ্ক্ষিত জাল। বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি নিজের করে নেন।

পুরোটা সময় প্রতিপক্ষের রক্ষণ চেপে ধরে রেখেছেন। ভেঙেচুরে ঢুকে পড়েছেন তিউনিসিয়ার ডেরায়। তবে নিজে আর কোনো গোলের দেখা না পেলেও সতীর্থকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আরো দুটো।

ইসাকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা সুইডেনে হলেও তার শিকড় পূর্ব আফ্রিকার দেশ এরিত্রিয়ায়। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিধ্বস্ত এরিত্রিয়া ছেড়ে শরণার্থী হিসেবে সুইডেনে আশ্রয় নিয়েছিলেন তার মা-বাবা।

স্টকহোমের এক শহরতলিতে নতুন জীবন শুরু করেছিলেন তারা। ছিল না প্রতিষ্ঠিত কোনো ভিত্তি, ছিল না নিশ্চয়তার কোনো পথ। তবুও কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য মানসিক শক্তিতে ছেলেকে বড় করে তুলেছিলেন। সেই ছেলেই এখন বিশ্বকাপের তারকা। সুইডেনের রত্নভাণ্ডারে থাকা মূল্যবান এক হীরা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link