বাংলাদেশের সামনে বিশ্বকাপের কঠিন সিলেবাস!

২০২৭-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে ঢের দেরি। তবে সিলেবাস হাতে পেয়েছে দলগুলো। যা দেখে বাংলাদেশের চক্ষুচড়কগাছ হওয়ার উপক্রম। এই সিলেবাসের সাথে টক্কর দিয়ে পরীক্ষা ভালো ফল করা রীতিমতো আকাশকুসুম স্বপ্ন। এই দায় অবশ্য বাংলাদেশের নয়, মূলত বাণিজ্যিক লাভের আশা এখন ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। সবকিছু সাজানো হচ্ছে একেবারে পরিকল্পনা করে।

২০২৭-এর ওয়ানডে বিশ্বকাপ শুরু হতে ঢের দেরি। তবে সিলেবাস হাতে পেয়েছে দলগুলো। যা দেখে বাংলাদেশের চক্ষুচড়কগাছ হওয়ার উপক্রম। এই সিলেবাসের সাথে টক্কর দিয়ে পরীক্ষা ভালো ফল করা রীতিমতো আকাশকুসুম স্বপ্ন। এই দায় অবশ্য বাংলাদেশের নয়, মূলত বাণিজ্যিক লাভের আশা এখন ক্রিকেটের ভারসাম্য নষ্ট করছে। সবকিছু সাজানো হচ্ছে একেবারে পরিকল্পনা করে।

গ্রুপে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। সঙ্গে থাকবে একটি কোয়ালিফায়ার দল। অর্থাৎ বিশ্বকাপের প্রথম ধাপেই একের পর এক বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে বাংলাদেশকে। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। ক্রিকেট মাঠে আপনাকে তো আর কেউ বাড়তি সুবিধা দেবে না। ভালো কিছু করতে হলে হারাতে হবে বড় দলকে। তবে অন্য পাশে যখন হিসাবটা পানির মতো সহজ, তখন স্বচ্ছতার একটা প্রশ্ন চলেই আসে।

গ্রুপ ‘এ’-এর দিকে তাকালে চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র। সেখানে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে ও একটি কোয়ালিফায়ার দল। ভারসাম্যহীনতার সহজ পাঠ এখানেই পাবেন আপনি। ভারত-পাকিস্তানের ম্যাচ যাতে বেশি করে আয়োজন করা যায়, সেটারই বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বেশি দর্শক টানা ম্যাচগুলোর একটি এবং সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের কাছে এর গুরুত্ব বিশাল। যদিও পাকিস্তানের সাথে ভারতের খেলাটা একপেশেই হয়ে দাঁড়ায়, তবুও অর্থের ঝনঝনানির কোনো কমতি এখানে নেই।

কিন্তু বাংলাদেশের হিসাবটা একেবারেই আলাদা। গ্রুপ ‘বি’-তে প্রথমেই ইংল্যান্ড। এরপর স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের পাঁচ ম্যাচের মধ্যে অন্তত চারটিতেই বাংলাদেশের সামনে থাকবে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শক্তি। এদের সাথে লড়াই করে জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়াটা তাই দুঃসাধ্য ব্যাপার।

শুধু প্রতিপক্ষের নামই নয়, এই বিশ্বকাপের নতুন কাঠামোও বাড়িয়ে দিচ্ছে চাপ। ১৪ দলের বিশ্বকাপে মূল গ্রুপ পর্বে থাকবে ১২ দল। দুই গ্রুপ থেকে শীর্ষ তিনটি দল সরাসরি যাবে ‘সুপার সেভেন’-এ। সঙ্গে দুই গ্রুপের চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মধ্যে সেরা দলটিও পাবে পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ।

বাংলাদেশের জন্য তাই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুটাই হতে পারে বড় পরীক্ষা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা, নিজেদের মাটিতে যাদের বিপক্ষে খেলতে হবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই মানেই আরেকটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। শ্রীলঙ্কাকেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এখন দেখার বিষয় বাণিজ্যিক ছকের এই আবরণ ভেদ করে বাংলাদেশ কতটা লড়াই করতে পারে।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link