টুর্নামেন্ট আয়োজনের ম্যারাথনে বিসিবি!

এই ব্যস্ত সূচিতে ক্রিকেটের গুণগত মান কি বজায় রাখতে পারবে বোর্ড? ঘরোয়া ক্রিকেটের উৎকর্ষ সাধনে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সফল করাই এখন বিসিবির সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা!

হাতে আট মাস এগারো দিন। এই অল্প সময়েই নয়টি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের ম্যারাথনে নামতে চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)! অবিশ্বাস্য শোনালেও, বোর্ডের টুর্নামেন্ট কমিটির সামনে এখন এমনই পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।

সাম্প্রতিক সময়ে বড় রূপান্তরের হাওয়া বইছে দেশের চেনা ঘরোয়া ক্রিকেটে। বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এখন থেকে পরিচিত হবে ‘চারদিনের বাংলাদেশ ফার্স্ট টুর্নামেন্ট’ নামে। বিসিএল ওয়ানডেও পরিণত হবে বাংলাদেশ ফার্স্ট ওয়ানডেতে। আর ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি হবে বাংলাদেশ ফার্স্ট টি-টোয়েন্টি।

নাম বদলের পাশাপাশি প্রতিভা তুলে আনতে ওনারশিপ প্যাকেজ মডেলে আয়োজন করা হবে প্রতিযোগিতাগুলো। ঢাকা লিগের প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের অবহেলিত ক্রিকেটারদের জন্য ‘মাইনর ন্যাশনাল লিগ’ বা এমসিএল হবে জাতীয় লিগে খেলার বড় সুযোগ এনে দেবে। ৫ কোটি টাকা বাজেটে এই টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের যথাযথ ম্যাচ ফি ও উন্নত সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে মালিকপক্ষগুলোকে।

এদিকে, মাঠের লড়াই শুধু প্রথাগত ক্রিকেটেই সীমাবদ্ধ থাকছে না আর এবার। প্রায় এক যুগের দীর্ঘ বিরতির পর দেশে ফিরতে চলেছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টও। আটটি পাবলিক, ১৬টি প্রযুক্তি এবং ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দল নিয়ে আগামী জানুয়ারিতে শুরু হবে ক্রিকেটের মহোৎসব।

সাথে থাকছে চার আঞ্চলিক দল নিয়ে ‘রাইজিং স্টার চ্যালেঞ্জ কাপ’, যা বসবে খুলনা ও বরিশালের মাটিতে। একইসঙ্গে, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষেও বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে বিসিবির।

টুর্নামেন্ট কমিটর ম্যানেজার আবু ইমাম মোহাম্মদ কাওসার জানান, এনসিএলের মৌসুমের মাঝেই ৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এমসিএল। ২০২৭ সালের ২৫ মে থেকে ৬ এপ্রিল আয়োজিত হবে রাইজিং স্টার চ্যালেঞ্জ কাপ। আর আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট আগামী বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে।

তবে এত দীর্ঘ সূচি সত্ত্বেও ক্রিকেটারদের ফিটনেসের প্রশ্নে কোনো ছাড় দিচ্ছে না বিসিবি। কোচ এবং ফিটনেস ট্রেইনারদের অধীনে দুই সপ্তাহের কঠোর ক্যাম্প শেষে নির্বাচকদের ছাড়পত্র পেলেই কেবল চূড়ান্ত দলে জায়গা পাবেন খেলোয়াড়রা।

এখন বড় প্রশ্ন হলো—এই ব্যস্ত সূচিতে ক্রিকেটের গুণগত মান কি বজায় রাখতে পারবে বোর্ড? ঘরোয়া ক্রিকেটের উৎকর্ষ সাধনে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ সফল করাই এখন বিসিবির সবচেয়ে বড় অগ্নিপরীক্ষা!

 

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link