রোনালদো চলে যেতেই ব্রুনোর উজ্জ্বল পারফরম্যান্স!

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল ত্যাগের ফলে পর্তুগাল জাতীয় দলের ব্যাটন এখন পুরোপুরি ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা এই মিডফিল্ডার মাঠে জোড়া অ্যাসিস্টে প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকেই আধুনিক পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম মূল কান্ডারি ভাবা হচ্ছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দল ত্যাগের ফলে পর্তুগাল জাতীয় দলের ব্যাটন এখন পুরোপুরি ব্রুনো ফার্নান্দেজের হাতে। অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা এই মিডফিল্ডার মাঠে জোড়া অ্যাসিস্টে প্রমাণ করে দিলেন, কেন তাকেই আধুনিক পর্তুগিজ ফুটবলের অন্যতম মূল কান্ডারি ভাবা হচ্ছে। উয়েফা নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ের নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ব্রুনোই।

​ঘরের মাঠে ডেনমার্কের হাই প্রেসিং এবং শারীরিক শক্তির ফুটবলের সামনে যখনই পর্তুগাল কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, তখনই ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন নতুন এই ক্যাপ্টেন। মাঝমাঠের দখল রাখা থেকে শুরু করে আক্রমণভাগের দিশা দেখানো – মাঠে থাকা ৮৯ মিনিটজুড়ে পার্কেন স্টেডিয়াম শাসন করেছেন তিনি।

পর্তুগালের আক্রমণাত্মক ফুটবলের মূল চাবিকাঠি ছিল ব্রুনোর প্লে মেকিং। ডেনমার্কের সুসংগঠিত থ্রি-ম্যান ডিফেন্স ভাঙতে তাঁর বাড়ানো ডিফেন্স স্প্লিটিং পাসগুলো ছিল প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের কারণ।

বিশেষ করে ২৫ মিনিটে গনসালো রামোসের গোলটিতে ব্রুনোর সেই থ্রু পাসটি ছিল নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল দূরদর্শিতার উদাহরণ। মাঝমাঠ থেকে ডেনিশ রক্ষণের মাঝখানের ছোট্ট ফাঁকা জায়গা বা হাফ স্পেস ব্যবহার করে যেভাবে আক্রমণ সাজিয়েছেন, তা প্রতিপক্ষের ট্যাকটিক্স ভেঙে চুরমার করে দেয়।

​অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই তারকা মিডফিল্ডার যেন আরও বেশি দায়িত্বশীল। ম্যাচে কেবল আক্রমণ তৈরিতেই নয়, প্রেস এড়িয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ রাখা এবং ডিফেন্সে সহায়তা করার ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝমাঠে ভিতিনহার সঙ্গে ব্রুনোর বোঝাপড়া দলকে এনে দেয় নিখুঁত ভারসাম্য।

​রোনালদো যুগের সম্ভাব্য অবসানের পর পর্তুগাল ফুটবল দল কিভাবে ঘুরে দাঁড়াবে – এমন গুঞ্জন ও শঙ্কার কড়া জবাব ব্রুনো দিলেন তাঁর মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। অধিনায়কত্ব ও অসাধারণ প্লে মেকিং সামর্থ্যের মেলবন্ধনে তিনি প্রমাণ করলেন, নেশনস লিগে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে পর্তুগালের এই নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে ব্রুনো ফার্নান্দেজেরই হাত ধরে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link